মঙ্গলবার | ০৫ মে ২০২৬

ভোটে হারেননি, পদত্যাগ করবেন না, ঘোষণা মমতার

 ভোটে হারেননি, পদত্যাগ করবেন না, ঘোষণা মমতার

কলকাতা, ৫ মে-  ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পরেই তৃণমূলনেত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ভোট লুঠ করেছে বিজেপি। আর আজ কালীঘাটের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, প্রথামাফিক তিনি লোকভবনে পদত্যাগপত্র দিতে যাবেন না। মমতার যুক্তি, তারা হারেননি, ভোট লুঠ করা হয়েছে। তাই পদত্যাগের কোনও প্রশ্ন উঠছে না। আর মমতার এই ঘোষণার পরেই তার সমালোচনায় সরব হয়েছে বিজেপি। তাদের মন্তব্য, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ মানায় না।

            মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তৃণমূলনেত্রী। আর সেখানেই নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনায় সরব হন তিনি। দাবি করেন, জোর করে বিভিন্ন কাউন্টিং সেন্টার থেকে তার দলের কাউন্টিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। তৃণমূলনেত্রীর মন্তব্য, ‘আমাদের লড়াই তো বিজেপির সঙ্গে ছিল না। আমাদের লড়াই ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। কমিশন ভিলেনের মতো কাজ করেছে। ভোটের দু’দিন আগে থেকে আমাদের দলের কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলকে জোর করে হারানোর এই খেলায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। গণতন্ত্রে  ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?’ মমতা বলেন, ‘ওরা এমনি জিতলে আমার কোনও অভিযোগ থাকত না। ভোটে হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা তো হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা ভোট লুট করেছে।’ পাল্টা বিজেপির তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়, হারার সঙ্গে সঙ্গেই কী পদত্যাগ করা উচিত ছিল না? তিনবারের একজন মুখ্যমন্ত্রীর কী এই আচরণ মানায়? ৭ তারিখ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে মেয়াদ। তার মধ্যে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘হেরে যাওয়ার পরেও কীভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইস্তফা দিতেই হবে।’

মঙ্গলবারের সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলনেত্রী দাবি করেছেন, জেলায় জেলায় তৃণমূলের কর্মীদের ওপর অত্যাচার করছে বিজেপি আশ্রিত গুন্ডারা। বহিরাগতরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মহিলাদের ওপর অত্যাচার করছে বলেও দাবি করেন তিনি। মমতা আরও অভিযোগ করেন, গণনার দিনে সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রে যখন তিনি যান তখন তাকে সেখানে হেনস্থা করেছেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। যদিও এর পাল্টা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়ে দেন, এই ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। মনগড়া অভিযোগ করছেন তৃণমূলনেত্রী। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে সত্তরের দশকের সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘আমাদের এই লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন। তারা মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করেছে। সব অফিসারকে বদলে দিয়েছে। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।’ তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, ‘কেন এমন একটি নোংরা খেলা খেললেন। আমি বাহাত্তরের সন্ত্রাস দেখিনি। কিন্তু আজকের এই সন্ত্রাস সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। আমি অনেকদিন ধরে রাজনীতি করছি। রাজীব গান্ধীর সরকার দেখেছি, মনমোহন সিংয়ের সরকার দেখেছি, আইকে গুজরালের সরকার দেখেছি। কিন্তু সিআরপিএফের এমন আচরণ কখনও দেখিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনও দল করতে পারে? ভাবা যায়? আমরা যখন জিতেছিলাম, বলেছিলাম, কারও উপর যেন অত্যাচার না হয়। সিপিএমের  কোনও পার্টি অফিসে আমরা হাত দিইনি। অত্যাচার করিনি।’

মমতা আজ দাবি করেছেন, ইন্ডিয়া টিম শক্তিশালী রয়েছে। তিনি নিজেও বাংলায় লড়াই চালিয়ে যাবেন। ইন্ডিয়া জোটের সকল নেতা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা। সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীবাল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেনরা মমতাকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মমতা বলেন, ‘জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। অখিলেশ আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সকলেই আসবেন। জোট শক্তিশালী করব।’ তৃণমূলনেত্রী বলেন, এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ। সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব। গণতন্ত্রকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে আমরা বাঘের মতো লড়াই করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *