মঙ্গলবার | ০৫ মে ২০২৬

সরানো যাবে না কোনও ফাইল, কড়া নির্দেশিকা রাজ্যের মুখ্যসচিবের

 সরানো যাবে না কোনও ফাইল, কড়া নির্দেশিকা রাজ্যের মুখ্যসচিবের

কলকাতা, ৪ মে– সোমবার, একদিকে যখন ইভিএমের ফল রাজ্যের পালাবদলকে ইঙ্গিত করছে, ঠিক তখনই প্রশাসনের অন্দরে এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। সোমবার দুপুরে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল এক কড়া নির্দেশে জানিয়েছেন, কোনও সরকারি দফতর থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাগজ বা ফাইল সরানো বা নষ্ট করা যাবে না।

            ভোটের ফল প্রকাশের এই ডামাডোলের মধ্যে কেন এমন নির্দেশ? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই আগাম সতর্কতা। মুখ্যসচিবের সই করা এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যে ফাইল রক্ষায় কড়াকড়ি করা হবে। কোনও বিভাগীয় সচিব বা দফতরের প্রধান, তাঁদের অফিস থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল যাতে না সরানো হয় সেইদিকে নজর রাখবেন। পাশাপাশি ফাইল নষ্ট করার বিষয়েও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কোনওভাবেই যাতে কোনও নথির ক্ষতি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, ফাইল স্ক্যান এবং কপি করার অনুমদন দেওয়া হয়নি। বিনা অনুমতিতে সরকারি ফাইলের কোনওরকম কপি বা স্ক্যান করা যাবে না বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি ফাইল এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের নথির সঠিক হিসাব রাখতে হবে।

            নবান্ন সূত্রের খবর, এই নির্দেশিকা পালনে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, বিভাগীয় সচিব এবং বিভাগীয় প্রধানদের ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে এই নির্দেশ যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে। যদি কোনও অনিয়ম বা বিচ্যুতি নজরে আসে, তবে তার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিককেই ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এই বার্তা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে। এই নির্দেশের প্রতিলিপি রাজ্যের সমস্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, ডিজিপি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং জেলাশাসকদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাজ্যপালের সচিবকেও বিষয়টি সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

             রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। অশান্তি রুখতে নবান্ন-সহ রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনেও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এই প্রসঙ্গে বিজেপির একাংশের বক্তব্য, রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় বিগত দিনে ঘটে যাওয়া দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের ফাইলপত্র যাতে সরিয়ে দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতা। এখানে বলে রাখা দরকার, নবান্নের যাওয়া-আসা করা সকলের ব্যাগ পরীক্ষা করে তবেই ছাড়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে নবান্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *