অধিকার রক্ষার লড়াই করছেন বাংলার মানুষ, মন্তব্য মমতার
কলকাতা অফিস, ২৩ এপ্রিল – বাংলায় প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড ভোটদান নজির তৈরি করেছে। বিগত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে বাংলায় এই প্রথম এত মানুষ ভোটদান করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বাংলায় এই রেকর্ড ভোটদানকে বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই বলে মন্তব্য করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৌবাজারের দলীয় প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে এদিন প্রচারে গিয়ে মমতা বলেন, ‘এসআইআরের নাম করে ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে। ওদের লোক বসিয়েছে। ওরা আমার সঙ্গে যোগাযোগও রাখে না। নবান্নটাকে তছনছ করে দিয়েছে। এর দায়িত্ব কিন্তু ওদের নিতে হবে। কোনও ঘাপলা হলে সব ওদের ঘাড়ে যাবে। আমি সামলাব, আর তোমরা হামলা করবে, তা হতে পারে না।’ বাংলায় বিপুল ভোটদান প্রসঙ্গে চৌরঙ্গীর সভা থেকে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘বাংলা মানুষ জানে কী ভাবে ভোট রক্ষা করতে হয়। জানেন এত কেন ভোট পড়ছে? ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তুলেছি। ট্রাইবুনাল কিচ্ছু তুলতে পারেনি। সেটা ওদের নির্দেশে কাজ হয়েছে কি না জানি না। তবে মানুষ জানেন এটা তাদের অধিকার রক্ষার লড়াই। তৃণমূলকে ভোট না-দিলে আমও যাবে ছালাও যাবে। তার অধিকার, সম্পত্তি, ঠিকানা, ব্যবসা যাবে। বিজেপির অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেন ভোট দেবে?’ আত্মবিশ্বাসের সুরে মমতা বলেন, ‘আজ যা ভোট হয়ে গিয়েছে, তাতে আমার মন যদি মানুষের ভাষা বোঝে— আমরা অলরেডি জেতার জায়গায় এসে গিয়েছি।’
বাংলায় ভোটের দিনে প্রধানমন্ত্রীর সভা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, ‘ভোটের দিনও টেলিপ্রম্পটার দেখে প্রচার করতে এসেছেন বাংলায়! আসলে এসেছেন হাওয়া গরম করতে। বিজেপির এজেন্ট তো নেই। ওটা তো এজেন্সি হয়ে গেছে। এখানে এতগুলো আসনে ভোট হচ্ছে আর ভোটের দিন বলছেন আপনারা জিতছেন! কীভাবে বলছেন? এটা তো জনগণ ঠিক করবেন।’ ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়াকেও এদিন কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কথায়, ‘আমি যদি কোনও দোকানে যাই তবে স্বতস্ফূর্ত ভাবে যাব। আগে থেকে নিশ্চয় টিভি ক্যামেরা ফিট করা থাকবে না। দোকানে আগে থেকে টিভি ক্যামেরা ফিট রেখেছিল। সিকিউরিটি দিয়ে ঝালমুড়ি বাড়ি থেকে বানিয়ে এনেছিল। পকেট থেকে সাজানো চকচকে নোট বার করেছিল। আমার কাছেও নেই।’ মোদির উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘এখন বলছে জিতে ঝালমুড়ি খাবেন। আপনাকে ভেলপুরি পাঠাব। দিল্লিতে পাওয়া যায়। ওখানে ঝালমুড়ি পাওয়া যায় না। আপনি ১০ টাকা নিয়ে এসেছেন। আগের বার বলেছিলেন চায়েওয়ালা, এখন ঝালমুড়ি দেখাচ্ছেন? ঝালমুড়ির ঝাল খেয়ে তো আমরা অভ্যস্ত। আপনি কখনও মাছভাত খেয়েছেন?’
ডিলিমিটেশন বিল সংসদে আটকে যাওয়া নিয়ে মোদী সরকারকে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘তখনই বোঝা গিয়েছিল, মানুষের আস্থা নেই। পদত্যাগ করা উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর।’ নাম না করে রাজ্যপাল আর এন রবিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেছেন, ‘২০০৫ সাল থেকে হিসাব নিয়েছেন লাটসাহেব বাবু। আমি জানিও না। ক্যালকুলেট করছে। আপনার ক্যালকুলেটরটা বিজেপি-কে দিন। আর আপনি নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন। আপনাকে সম্মান করে এ টুকু বললাম।’