শনিবার | ১১ এপ্রিল ২০২৬

বাংলায় বাঙালিদের সংখ্যালঘু হতে দেব না, বাঙালি অস্মিতায় শান মোদির

 বাংলায় বাঙালিদের সংখ্যালঘু হতে দেব না, বাঙালি অস্মিতায় শান মোদির

কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, ১১ এপ্রিল – বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে এবার বাঙালি অস্মিতায় শান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর তা করতে গিয়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার পরে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে সভা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, বর্তমান সরকারের নীতির কারণেই পশ্চিমবঙ্গে আজ বাঙালিরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তার প্রতিশ্রুতি, ‘আমি কথা দিচ্ছি, বাংলায় বাঙালিদের কোনওভাবে সংখ্যালঘু হতে দেব না।’

            অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বাংলার তৃণমূল সরকারকে লাগাতার আক্রমণে নেমেছেন বিজেপি নেতারা। এবার ফের সেই একই ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা করে জঙ্গিপুরের সভা থেকে মোদি বলেন, ‘তৃণমূল আজ বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানিয়ে সরকার টিকিয়ে রাখতে চাইছে। কিন্তু এর ফল হচ্ছে মারাত্মক। অনুপ্রবেশকারীরা আপনাদের জমি আর চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বাঙালির নিজস্ব পরিচয় বলে আর কিছু থাকবে না।’ বাংলার এই বিধানসভা নির্বাচনকে বাংলার পরিচিতিকে বাঁচানোর লড়াই হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলার মানুষের কাছে তার আবেদন, ‘সকলে একজোট হয়ে ভোট দিন। এই পরিবর্তন আনার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।’ বিগত পনেরো বছরে তৃণমূলের শাসনকালে বাংলা ক্রমেই পিছিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

            কটাক্ষের সুরে আজ মোদি বলেন, ‘সারা দেশের জিডিপি যখন বাড়ছে, তখন বাংলার জিডিপি কমছে। রাজ্যে কোনও নতুন শিল্প নেই, কর্মসংস্থান নেই। পেটের টানে বাংলার যুবকদের ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে চলে যেতে হচ্ছে।’ আজ কাটোয়া, জঙ্গিপুরের পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুরেও সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। মুর্শিদাবাদের সভা থেকে কৌশলে হুমায়ুন কবীরের ভিডিও প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন মোদি। মুর্শিদাবাদের নেতা হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ভিডিয়ো প্রকাশ করে বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাঁতের দাবি করেছে তৃণমূল। শনিবার জঙ্গিপুরে সভা করতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘ভোট যত এগোচ্ছে, তৃণমূল পরাজয় দেখতে পাচ্ছে। তাই ওরা এআই কাজে লাগিয়ে ভুয়ো ভিডিয়ো বানিয়ে মিথ্যা প্রচার শুরু করেছে। অসম আর পুদুচেরীতেও এটা করেছে। আমি আপনাদের সতর্ক করছি, এগুলোতে ভুলবেন না। দলে দলে ভোট দিতে বেরোন। বিজেপিকে জয়ী করুন।’

            দক্ষিণ দিনাজপুরের সভা থেকে সরকারি কর্মচারীদের আশ্বস্ত করে মোদি বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের ভয়মুক্ত করে বলছি, আমাদের সরকার গঠনের পরে সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম পে কমিশনের সুবিধা দেওয়া হবে।’  প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নিজের ব্যবসা শুরু করার জন্য যুবদের সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, ‘বিহার, ত্রিপুরায় বেশিরভাগ মানুষের বাড়িতে নলের জল পৌঁছে গিয়েছে। কারণ এই রাজ্যগুলিতে বিজেপির সরকার আছে। বাংলাতেও কেন্দ্র টাকা দিয়েছে, কিন্তু এই নির্মম সরকার এই প্রকল্প চালু হতে দেয়নি। আপনারা বিজেপিকে নিয়ে আসুন।  সব ঘরে নল বসানো হবে, আপনাদের পরিবারে জল পৌঁছনোর জন্য বিজেপি দিনরাত এক করে দেবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *