শুক্রবার | ১০ এপ্রিল ২০২৬

ক্ষমতায় এলে ভাতা দ্বিগুণ, সঙ্কল্পপত্রে পনেরো প্রতিশ্রুতি বিজেপির

 ক্ষমতায় এলে ভাতা দ্বিগুণ, সঙ্কল্পপত্রে পনেরো প্রতিশ্রুতি বিজেপির

সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ করছেন অমিত শাহ

কলকাতা, ১০ এপ্রিল – ছাব্বিশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিজেপির সঙ্কল্পপত্রে বড় চমক। শুক্রবার কলকাতায় দলের নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্প পত্র’ প্রকাশ করে কার্যত মাস্টারস্ট্রোক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একদিকে যখন শাসক দলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে রাজ্যে জোর চর্চা, ঠিক তখনই পালটা চাল দিল গেরুয়া শিবির। শাহ ঘোষণা করলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “বাংলার মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গরিব মহিলাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাঁদের ক্ষমতায়নের বদলে কেবল রাজনীতির বোড়ে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”

            কেবল মহিলারাই নন, বিজেপির ইস্তাহারে বড় চমক রয়েছে যুব সমাজের জন্যও। বাংলায় কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। সেই ক্ষোভকে পুঁজি করেই অমিত শাহ জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে বেকার যুবকদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ‘বেকার ভাতা’ দেওয়া হবে। শাহের কথায়, “বাংলার মেধাবী যুবকরা কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এসে শিল্পায়নের পাশাপাশি এই যুবকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।”

এক নজরে বিজেপির ১৫ প্রতিশ্রুতি

জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে

গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয়ের খতিয়ান তুলে ধরতে একটি বিশেষ ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে

‘কাট মানি’ সংস্কৃতির সিন্ডিকেট রাজ নির্মূল করা হবে

সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য কেন্দ্রীয়হারে মহার্ঘ ভাতা নিশ্চিত করা হবে এবং সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে

আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষের জন্য নতুন চাকরি ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে এবং বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিমাসে ৩০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে

মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য থাকবে বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। রাজ্যের সমস্ত সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে

মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে

ধান, আলু ও আম চাষে বিশেষ সরকারি সাহায্য এবং কৃষকদের জন্য ফসলের ন্যায্য মূল্য সুনিশ্চিত করা হবে

রাজ্যের প্রতিটি মৎস্যজীবীকে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র অধীনে নথিভুক্ত করা হবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পশ্চিমবঙ্গকে একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প কেন্দ্র এবং মৎস্য রপ্তানিকারক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা দেশের অন্যতম প্রধান মাছ রপ্তানিকারক রাজ্যে উন্নীত করা হবে

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়ন করা হবে এবং গবাদিপশু পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে

পুরনো চা বাগানগুলির উন্নয়ন, দার্জিলিং চা-এর বিশ্বজনীন ব্র্যান্ডিং এবং পাটশিল্পের আধুনিকীকরণ করা হবে

ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে

আয়ুষ্মান ভারত যোজনার বাস্তবায়নসহ সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প চালু করা হবে, মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ ও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা চালু করা হবে এবং উত্তরবঙ্গে একটি নতুন ‘এইমস’ নির্মাণ করা হবে, উত্তরবঙ্গে নতুন আইআইটি ও আইআইএম ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে

একটি বিশেষ ‘বন্দে মাতরম্‌ সংগ্রহশালা’ তৈরি করা হবে

ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইন বলবৎ করা হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *