হরমুজের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই, স্পষ্ট বার্তা ইরানের
কড়া বার্তা ইরানের
তেহরান, ১০ এপ্রিল : যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে ইরানের সঙ্গে আলোচনার তোড়জোড় শুরু করেছে আমেরিকা। এই আবহেই ইরানের তরফে এটা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাদের হাতেই। দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস ইরানের এক সিনিয়র আধিকারিককে উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে। তাদের রিপোর্টে দাবি, এই ১৫টি জাহাজের বার্তাই যুদ্ধবিরতির সমঝোতার অন্যতম শর্ত। যদিও আমেরিকার তরফে এই ধরনের কোনও শর্তের কথা জানানো হয়নি। ইরানের তরফে সরকারিভাবেও একথা জানানো হয়নি।
যুদ্ধ থামানোর জন্য অর্থনৈতিক শর্তও আমেরিকাকে দিয়েছে ইরান। বিদেশে তাদের যত সম্পত্তি আটকে রাখা হয়েছে, সেগুলিকে এই দু’সপ্তাহের মধ্যে মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। তা ছাড়া, যুদ্ধের সমাপ্তি এবং শান্তি স্থাপনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবের আকারে স্বীকৃতি দিতে হবে বলেও আমেরিকাকে জানিয়েছে তেহরান। তা না-হলে ফের যুদ্ধ শুরু করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, লেবাননের সঙ্গেও আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার তিনি জানালেন, সংঘর্ষ বন্ধ করতে তিনি লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। তাই ক্যাবিনেটকে নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন লেবানন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। তবে ইজরায়েলি শর্ত মেনে লেবানন আদৌ যুদ্ধ থামাবে কিনা সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। লেবাননে এই হামলা নিয়ে অসন্তুষ্ট ইরান। সেদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, ‘লেবাননের বিরুদ্ধে বর্বর আগ্রাসনের জবাবে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনই বন্ধ করে দিতে হবে। যুদ্ধবিরতি যদি হয়, তবে তা হতে হবে সর্বত্র। নতুবা কোনও এলাকাতেই তা কার্যকর হবে না।’ এই মন্তব্যের পরেই নড়েচড়ে বসেছে ইজরায়েল। শান্তি ফেরানো নিয়ে আলোচনায় বসার বার্তা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, লেবাননের তরফ থেকেই বারবার আলোচনায় বসার ডাক দেওয়া হচ্ছে। তাতেই সাড়া দিয়েছে ইজরায়েল।