বৃহস্পতিবার | ০৯ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনী সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি মমতার

 নির্বাচনী সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি মমতার

বরানগরে পদযাত্রায় তৃণমূলনেত্রী

কলকাতা , ৯ এপ্রিল – অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বাংলার তৃণমূল সরকারকে লাগাতার আক্রমণ করছেন বিজেপি নেতারা। বৃহস্পতিবারও বাংলায় সভা করতে এসে এই ইস্যুতে সরব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

            বৃহস্পতিবার মিনাখাঁ, পানিহাটীতে সভা করার পরে বরানগরে একটি পদযাত্রা করেন মমতা। তারপর সন্ধ্যায় বাগুইআটিতে দলের প্রার্থী অদিতি মুন্সি এবং সুজিত বসুর সমর্থনে একটি সভা করেন তিনি। আর সেই সভা থেকেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। আক্রমণাত্মক সুরে তিনি বলেন, ‘বাংলা নাকি অনুপ্রবেশের কারখানা। তাহলে আপনাদের বিএসএফ কী করছিল? সে তো আপনাদের দায়িত্বে। সিআইএসএফ কী করছিল? কাস্টম্‌স, পাসপোর্ট, এয়ারপোর্ট, রেল সব তো কেন্দ্রের হাতে। অমিত শাহকে আগে তাহলে পদত্যাগ করতে বলুন!’

            হলদিয়ার সভা থেকে মোদি আজ অভিযোগ করেছেন, মাছ উৎপাদনে বাংলা পিছিয়ে রয়েছে। বাংলার তৃণমূল সরকারের জন্য বাংলার মৎস্যজীবীরা পিএম মৎস্য সম্পদের সুবিধা পান না বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদির সেই সভার রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মিনাখাঁর সভা থেকে পাল্টা তোপ দাগেন মমতা। পরিসংখ্যান ও উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিতে চান, মাছের আকাল নয়, বরং বাংলায় এখন রূপোলি শস্যের জোয়ার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটা নতুন ধান উৎপাদন করছি। সেটি হল স্বর্ণধান। সেটি বিক্রিও হচ্ছে। চাষিদেরও লাভ হচ্ছে। ইলিশ মাছ যাতে বাংলায় জন্মায় ২০১৩ সালে ডায়মন্ড হারবারে গবেষণাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল। এখন অনেক ইলিশ বাংলায় জন্মায়।’ নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘সংবিধান মানছেন না। রাজ্যের ক্ষমতা কেড়়ে নিচ্ছেন। নিরপেক্ষ এজেন্সিগুলোকে একপক্ষের করে দিয়েছেন। আমি কমিশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা গর্বিত। তৃণমূল লড়াই করতে ছাড়ে না, ওরা বুঝেছে। মরবে, তবে লড়াই ছাড়বে না। মানুষের পাশ থেকে সরবে না। এসআইআর-এর সময় তৃণমূল রাস্তায় ছিল। কে হিন্দু, কে মুসলমান আমরা তো দেখিনি!’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধান ধ্বংস করে দিচ্ছে। ৯০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছ, মনে রেখো তাতেও আমরা জিতব। পুরো গণতন্ত্রকে চৈত্র মাসের সেলের মতো বিক্রি করে দিয়েছ। এভরি অ্যাকশন হ্যাজ ইটস রিঅ্যাকশন।’

            পানিহাটিতে সভা করতে গিয়ে দলের নেতাদেরও বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি শুরুতেই  একটা কথা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি। কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানরা শুনে রাখুন। তৃণমূল দলটা করতে গেলে সবুজ ধ্বংস করা চলবে না, মাঠ দখল করা চলবে না। বেআইনি নির্মাণ চলবে না। এখানে একটা মাঠ দখল করা হচ্ছিল বলে আমার কানে খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ধরেছি। যদি ভেবে থাকেন, আমি কলকাতায় থাকি বলে পানিহাটিতে কী হচ্ছে, জানব না, মালদহে কী হচ্ছে জানব না, সেটা কিন্তু নয়। সবার সব খবর আমি রাখি।’ আবার বরানগরের পদযাত্রায় পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা। বাগুইআটির সভা থেকে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা ঢিলেঢালা ছিল। এখন তো ভোট আসছে। আমি চার জায়গায় স্ট্যাম্পেড আটকেছি। মহিলাদের টেনে তুলেছি। তার পর এখানে এলাম। রাস্তায় লক্ষ লক্ষ লোক। সরু ফিনফিনে দড়ি নিয়ে পুলিশ দাঁড়িয়েছিল। বিজেপির মিটিংয়ের জন্য তো বড় ব্যারিকেড থাকে। একটা স্ট্যাম্পেড হয়ে গেলে কে দায়িত্ব নেবে?’ বিজেপির পতন ঘনিয়ে আসছে বলেও দাবি করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমি নাকি ভবানীপুরে হারব? বরং বিজেপি এ বার গুজরাতেও হারবে। অগস্টের পর থেকেই পতন ঘনিয়ে আসছে দিল্লির সরকারের। আমরা ধ্বংস চাই না। কিন্তু অধঃপতনেরও তো সীমা আছে। কোনও জায়গায় তো ঈশ্বর আছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *