বুধবার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সময়

 সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সময়

লক্ষ্মণ কুমার ঘটক

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ত্রিপুরায় প্রথম আসেন ১৮৯৯ ইংরেজির ২৭শে মার্চ। সেই দিবস স্মরণে ‘বাংলা আকাদেমি আগরতলা’ গত ২৭শে মার্চ ত্রিপুরা রবীন্দ্র পরিষদের দক্ষিণী সভাগৃহে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উপস্থিত ছিলেন নর্থ ইস্ট কালার্স পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জীব দেব, ড. বীথিকা চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মলয় দেব, আকাদেমির সম্পাদক ড. রবীন্দ্রকুমার দত্ত প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আকাদেমি প্রবর্তিত ‘মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬’ এবং ‘অনঙ্গমোহিনী দেবী স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়। প্রাপকরা হলেন যথাক্রমে অধ্যাপক ও সাহিত্যিক ড. জগদীশ গণ চৌধুরী ও সাহিত্যিক নিরঞ্জন চাকমা। অনুষ্ঠানে গান, আবৃত্তি, কবিতা ও অণুগল্প পাঠ করা হয়।
২৮শে মার্চ, ২০২৬ আগরতলার সুকান্ত একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আয়োজন, ‘গুরু পূজন’। ‘নাদব্রহ্ম সঙ্গীত বিদ্যাপীঠ’-এর উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী, হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী পণ্ডিত ভাগ্যেশ মারাঠে (মুম্বাই) সহ রাজ্যের প্রথিতযশা শিল্পী ও সঙ্গীতপ্রেমীরা। ‘নাদব্রহ্ম সঙ্গীত বিদ্যাপীঠ’-এর অধ্যক্ষ অভিজিৎ কর, তাঁর তবলা শিক্ষার প্রথম গুরু হিসেবে পিতা-মাতা কমলা রঞ্জন কর ও রেখা দেবী সহ গোপাল বিশ্বাস, বর্তমান গুরু জহর ব্যানার্জি ও আরও কয়েকজনকে সম্মাননা জ্ঞাপন করেন।
উদয়পুরের ‘লিটল ড্রামা অর্গানাইজেশন’-এর উদ্যোগে গত ২৭শে মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবস উদযাপন করা হয়। সংস্থার অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাটকের অংশ, মূকাভিনয়, সংগীত পরিবেশিত হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে গত ২২শে মার্চ গঙ্গাছড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে ‘আমার মেয়ে’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। অনুষ্ঠানে গোমতি জেলার জেলা শাসক রিঙ্কু লাথের, জেলা পুলিশ সুপার কিরণ কুমার কে উপস্থিত ছিলেন। নাট্যকার গৌতম সাহা।
সেপাহীজলা জেলার ‘চলো নাটক করি পরিবার’-এর উদ্যোগে মেলাঘর টাউন হলে গত ২৭ মার্চ, ২০২৬ বিশ্ব নাট্য দিবস উদযাপন করা হয়। সকালে চারটি বিভাগে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে মেলাঘর টাউন হল থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মেলাঘর বাজার পরিক্রমা করে মেলাঘর পুর পরিষদের সামনে শেষ হয়। সন্ধ্যায় মেলাঘর টাউন হলের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেলাঘর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন অনামিকা ঘোষ পাল রায়, নাট্যব্যক্তিত্ব পার্থ মজুমদার, বিদ্যুৎজিৎ চক্রবর্তী (বিল্টন) প্রমুখ। মেলাঘরের প্রবীণ নাট্যব্যক্তিত্ব মিলন রুদ্র, বীণাপানি দেবনাথ, উত্তম সাহা, মনীষা আচার্যী ঘোষকে সম্মান জানানো হয়। তারপর মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘উড়ান’, ‘আরতি’ ও ‘পুরাতন ভৃত্য’। রচনা সুব্রত চক্রবর্তী বুবাই।
অমরপুরে ‘চার্বাক নাট্য সংস্থার’ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্বনাট্য দিবস উদযাপন করা হয়। সংস্থার শিল্পীরা বিভিন্ন নাট্য চরিত্রের পোশাক পরে অমরপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করেন। থিয়েটারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতামূলক পোস্টার প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অমরপুর বাজারে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘সূর্যোদয়’, রচনা— খেলেন্দ্র দাস। অনুষ্ঠানে নাট্য দিবসের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন প্রবীণ যাত্রাশিল্পী দিবাকর ভট্টাচার্য এবং অমরপুর মহকুমা সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য প্রদীপ দাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *