শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন, তের বছর পরে জেলমুক্তি
জামিন পেলেন সারদাকর্তা
কলকাতা অফিস, ৮ এপ্রিল – দীর্ঘ তের বছর পরে জেলমুক্তি হতে চলেছে সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের। রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দু’টি মামলাতেও তার জামিন মঞ্জুর করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবারই জামিন মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। আজ বুধবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হয়। হাইকোর্টের এই নির্দেশে জেল থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রে সুদীপ্ত সেনের আর কোনও আইনি বাধা রইল না। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার জেল থেকে ছাড়া পেতে পারেন সুদীপ্ত সেন। তবে জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে আদালত।
সিবিআইয়ের হাতে ৭৬ টি মামলা ছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সব মামলায় আগেই জামিন পান সুদীপ্ত সেন। বারাসাতে দু’টি মামলায় জেলবন্দি ছিলেন সারদা কর্তা। এই দুই মামলাতেই জামিন মঞ্জুর করেছে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সারদাকর্তার জামিন মামলায় রাজ্যকে তুলোধনা করে কলকাতা হাইকোর্ট। ভর্ৎসনা করা হয় সিবিআইকেও।
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে সংশোধনাগার থেকে ‘প্রিজনার্স পিটিশন’ দাখিল করেন সুদীপ্ত সেন। আবেদন তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে কোনও শুনানি হচ্ছে না। বহু আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তাকে হাজির করানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। হয় তাকে অনলাইনের ‘ভার্চুয়ালি’, না হয় ‘ফিজিক্যালি’ হাজির করানো হোক। আদালতে জামিনের আবেদনও জানান তিনি। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে কটি মামলা আছে, সিবিআইয়ের কাছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করে। সিবিআইয়ের তরফে আইনজীবী অমাজিৎ দে রিপোর্ট দিয়ে জানান, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৩৮২টির মধ্যে ৭৬টি মামলা ছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। সেই সংক্রান্ত সব মামলাতেই শর্তে জামিন পেয়েছেন সুদীপ্ত সেন। রাজ্যের করা মামলাগুলোতেও মিলেছে জামিন। শুধু বারাসত কোর্টে থাকা দুটি মামলা এখনও বিচারাধীন।
২০১৩ সালে প্রকাশ্যে আসে সারদাকাণ্ড। ঘটনার পরেই সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন গা ঢাকা দিয়েছিলেন কাশ্মীরের সোনমার্গে। সেখান থেকে তাদের প্রথমে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশ। যদিও পরবর্তীকালে আদালতের নির্দেশে সারদা মামলা যায় সিবিআইয়ের হাতে। কিন্তু ধরা পড়ার পর থেকেই অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকেই জেলবন্দি অবস্থায় সুদীপ্ত সেন। সারদাকর্তার জামিন প্রসঙ্গে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, ‘কারও জামিন হওয়া বা না-হওয়া আইন-আদালতের বিষয়। জামিন পাওয়া আইনের মধ্যেই পড়ে। সুদীপ্ত সেন জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেছে। সুতরাং এটা নিয়ে আপাতত আলাদা করে কোনও ব্যাখ্যা বা মন্তব্যের কিছু নেই।’