বুধবার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬

রাজনীতি নয়, বরং জনসেবাই তার লক্ষ্য

 রাজনীতি নয়, বরং জনসেবাই তার লক্ষ্য

জনসংযোগে রাজেশ কুমার

সুমিত চক্রবর্তী, জগদ্দল, উত্তর চব্বিশ পরগনা –


১৯৯০ সালে আইপিএস অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করার পর থেকেই পুলিশ এবং প্রশাসনিক মহলে তার পরিচিতি বাড়তে থাকে। জনপ্রিয়তা আসে খুব সহজেই। নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন সাফল্যের সঙ্গে। এককথায় দাপুটে পুলিশ আধিকারিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন রাজেশ কুমার। এবার সেই প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমার বিজেপির প্রার্থী। উত্তর চব্বিশ পরগনার জগদ্দলে তাকে প্রার্থী করা হয়েছে।
রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার মুকুন্দগড় গ্রামে জন্ম রাজেশ কুমারের। তার বাবা শ্যাম সুন্দর সুরলিয়া ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। ছেলেবেলা থেকে দেশসেবার পাঠ নিয়েছেন বাবার কাছে। জীবনের শুরুটা হয়েছিল এভাবেই। ১৯৮৯ সালে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসের আধিকারিক হিসেবে নির্বাচিত হন। কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক মহলে তার গুরুত্ব বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মুর্শিদাবাদ এবং হাওড়া জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব সামলেছেন। এরপর রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিক পদেও সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেস যখন দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের শরিক দল ছিল সেই সময়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সৌগত রায়ের ব্যক্তিগত সচিব পদে দায়িত্ব সামলেছেন রাজেশ। পরে মুকুল রায় রেলমন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁরও ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এই আইপিএস অফিসার। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ে রাজেশ কুমারকে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদে দায়িত্ব দেয় নির্বাচন কমিশন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলানো সেই রাজেশ কুমার এবার জগদ্দলে বিজেপির প্রার্থী। রাজনীতিতে একেবারে নবীন মুখ, এটাও তার সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও তিনি নিজে এই বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে একেবারে নারাজ। প্রচারের ব্যস্ততার ফাঁকেই বললেন, ‘দেখুন প্রশাসনের দায়িত্ব সামলানোর অর্থ তো জনসেবা করা। আর রাজনীতিতেও এসেছি সেই জনসেবা করতে। এখানে চ্যালেঞ্জ বলে তো আমার কিছু মনে হচ্ছে না। বরং আরও বেশি করে এবার থেকে জনসেবা করতে পারব।’
বাংলায় শিল্পের করুণ দশা, শিক্ষা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার মতো নানা বিষয় নিজের নির্বাচনী প্রচারে সুকৌশলে তুলে ধরছেন রাজেশ। জগদ্দলের অলিতেগলিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের কাছ থেকে অভাব অভিযোগের কথা শুনছেন। একদম দক্ষ রাজনীতিকের মতো এলাকা চষে ফেলছেন তিনি। তার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলায় পরিবর্তন আসছে। ‘বাংলায় শিল্প নেই, কাজ নেই। স্কুল-কলেজের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। মানুষ তো সব দেখতে পাচ্ছেন। ফলে মানুষই মূল্যায়ণ করবেন। এখানে তো আমাকে কিছু আলাদা করে বলতে হবে না। বাংলার মানুষ পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন চাইছেন’- বলছেন রাজেশ কুমার। তার বিরুদ্ধে জগদ্দলে তৃণমূলের প্রার্থী দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া রাজনীতিক সোমনাথ শ্যাম। ভোটের ময়দানের সেই লড়াই কী তাহলে বেশ কঠিন হতে পারে? প্রশ্নটা শেষ হতেই রাজেশের জবাব, ‘বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। এখানে পুরনো রাজনীতিক বলে কিছু হয় না। আমি বলছি, এবার উনি (সোমনাথ শ্যাম) গোহারা হারবেন।’ রাজ্যের দীর্ঘদিন প্রশাসনিক স্তরে কাজ করা যে তাকে ভোটের ময়দানে বাড়তি ‘অ্যাডভান্টেজ’ দিচ্ছে সেকথাও মেনে নিয়েছেন রাজেশ।
কিন্তু রাজনীতির ময়দানে বিরোধী দলের নানা আক্রমণের মুখে তো পড়তেই হবে তাকে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কতটা বেগ পেতে হবে। এ নিয়েও কিছুটা অন্যরকম ভাবছেন রাজেশ কুমার। তার যুক্তি, সবসময় এই কুকথা, কুৎসা চলবে কেন, কেনই বা একজন প্রার্থী আরেক প্রার্থীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করবে? রাজনীতির ময়দানে লড়াইটা রাজনৈতিকভাবে হোক। তার কথায়, ‘অনেকদিন ধরে তো একই উদাহরণ চলছে। এবার একটু অন্য উদাহরণ তৈরি হোক না। ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা এবার বন্ধ হোক।’ এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নিজের পারিবারিক পরিচিতির কথা তুলে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই দুঁদে আইপিএস অফিসার। বললেন, ‘দেখুন, আমার বাবা একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। বাবা সবসময় দেশের সেবা করার পরামর্শ দিয়েছেন। পারিবারিক একটা সংস্কারে বড় হয়েছি। প্রশাসনে থাকার সময়ে মানুষের সেবা করেছি। আজ যখন রাজনীতিতে এসেছি, তখন সেই জনসেবাই করব। মানুষের জন্য কাজ করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *