মতুয়াদের পাশে থাকার বার্তা মমতার, ব্যারাকপুরে রোড শো রাজনাথের
বনগাঁয় মমতা, ব্যারাকপুরে রাজনাথ
কলকাতা, ৭ এপ্রিল – মতুয়া গড়ে গিয়ে এবার মতুয়াদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বনগাঁ উত্তরের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস এবং বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার কেন্দ্রের ঋতুপর্ণা আঢ্যের সমর্থনে বনগাঁ স্টেডিয়ামের সভা থেকে তৃণমূলনেত্রীর হুঙ্কার, ‘একজন মতুয়ার নাম বাদ গেলে আমার চেয়ে ভয়ঙ্কর কেউ হবে না।’
এসআইআরে মতুয়া সম্প্রদায়ের অনেকেরই ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার অভিযোগ উঠেছে। আর সেই প্রসঙ্গেই এদিন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। এই মতুয়া ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুর বিজেপির সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আবার তার দাদা সুব্রত ঠাকুরও বিজেপির টিকিটে জিতে আসা বিধায়ক। অন্যদিকে, ঠাকুরবাড়ির সদস্য মমতাবালা ঠাকুর তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ এবং তার কন্যা মধুপর্ণা তৃণমূল বিধায়ক। এবারও মধুপর্ণাকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। এদিন নাম না করে শান্তনুকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আজ তোমরা মতুয়া ঠাকুরবাড়ি নিয়ে রাজনীতি করো? ও ভাই, ঠাকুমাকে দেখতে না, চিকিৎসাও করোনি। বালু-ই (জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক) আমাকে বলত। আমাকে নিয়ে যেত। ওই রাস্তাও আমি করেছি। সে সব ভুলে গিয়েছ?’
নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘আপনারা কি জানেন, মাদার টেরিজ়ার মিশনারিজ় অফ চ্যারিটির ৩০০ জনের নাম কেটেছে? ভারত সেবাশ্রম, বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীর নাম বাদ। অনেক বিচারপতি হয়তো লজ্জায় বলতে পারেননি, বা এখন হয়তো নাম উঠেছে, তাদের নামও কাটা হয়েছিল। কত বড় সাহস, সাধারণ মানুষ থেকে বিচারপতি, সকলের নাম কেটেছে। নিজেরা ভুল করেছে। তার দায় চাপাচ্ছে মানুষের ঘাড়ে।’ আবার হাবড়ার সভা থেকে সিপিএমকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘ওরা জিতবে তো না। বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। একটি ভোটও সিপিএমকে দেবেন না। ওদের শূন্য করেছিলাম। আজ বড় বড় কথা বলছে। ওদের শূন্যে নামিয়ে দিন।’
এদিন হাবড়ার এই সভা থেকেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে দ্বরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। একসময় রেশন দুর্নীতি কান্ডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই জ্যোতিপ্রিয়কে গ্রেফতার করে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে শুনছি। হাবড়ার প্রার্থীর নামে… জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, এ কেউ করতে পারেনি। ওকে হিংসে করে গ্রেফতার করেছিল। কোনও প্রমাণ পায়নি। কেন গ্রেফতার করেছিল? ওই পচা সিপিএম পার্টির দেড় লক্ষ নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সেগুলো ফল্স নামে রেশন দিত। এই চুরি ধরেছিল বালু। তাই ভুয়ো কেসে ফাঁসিয়েছে। ডিজিটাল রেশন কার্ডও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (ওর ভাল নাম) করেছিল। এই কাজটা এত সোজা ছিল না। পাচার হত আগে রেশনের মাল। প্রত্যেকটা গাড়ি দেখা, সব বালু করেছিল। সেই ছেলেটাকে ফাঁসানো হয়েছিল।’
মঙ্গলবার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ছয় বিজেপি প্রার্থী একসঙ্গে ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে মনোনয়ন পেশ করেন। আর তাদের সঙ্গে শামিল হতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রার্থীদের সমর্থনে একটি রোড শো-তে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক হয়েছে জোড়া ঘাসফুল, বাংলা মাগে কমল ফুল।’ এবারের ভোটে নৈহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর। তাকে জেতানোর আহ্বান জানিয়ে রাজনাথ বলেন, ‘বাংলার মাটিতে এলেই আমি গর্ব অনুভব করি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ শুধু বাংলাকে নয়, সমগ্র দেশকে স্বাধীনতার লড়াইয়ে প্রেরণা জুগিয়েছে। এই গান মানুষের মনে আত্মত্যাগের সাহস জাগিয়েছে, জাতিকে একসূত্রে বেঁধেছে। তাঁর বংশধরকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাকে জেতানোর সুযোগ আজ আপনাদের সামনে।’