‘সেটিং’ তত্ত্বে এবার স্ট্যালিনকে নিশানা তৃণমূলনেত্রীর
‘ইন্ডিয়া’ জোটের দুই শরিককে আক্রমণ মমতার
কলকাতা, ৬ এপ্রিল – বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আঁতাঁত রয়েছে বলে আগে একাধিকবার কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দুই শরিক কংগ্রেস এবং ডিএমকের সঙ্গে আঁতাঁত প্রসঙ্গেও সংশয় প্রকাশ করলেন তিনি। সরাসরি ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিনের নাম উল্লেখ করে সেই সন্দেহপ্রকাশ করেছেন তৃণমূলনেত্রী।
সোমবার নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় নির্বাচনী সমাবেশ থেকে নির্বাচন কমিশনকে ফের তীব্র কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন ঘোষণার পরেই রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশ কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল নিয়ে লাগাতার আক্রমণ করেছেন মমতা। কোন উদ্দেশ্যে বাংলার আইএএস এবং আইপিএসদের অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে রাজ্যের বেশিরভাগ আধিকারিককে বাংলা থেকে সরিয়ে কেন তামিলনাড়ুতেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মমতা। আর এদিনের জনসভা থেকে সরাসরি আক্রমণের নিশানা করলেন ডিএমকে এবং কংগ্রেসকে। তার কটাক্ষ, ‘সকলকে তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এত ভাব তামিলনাড়ুর সাথে! ভিতরে ভিতরে নিশ্চয়ই বোঝাপড়া আছে কংগ্রেস আর স্ট্যালিনের সঙ্গে।’
রবিবার মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জের সভা থেকে তামিলনাড়ু নিয়ে এমন সন্দেহপ্রকাশ করেছেন মমতা। কিন্তু সেখানে এভাবে প্রকাশ্যে স্ট্যালিনের নাম তিনি বলেননি। বিজেপি বিরোধী যে পরিসর সেখানে স্ট্যালিনের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক বেশ ভাল। বিভিন্ন ইস্যুতে মমতা ও স্ট্যালিন একে অপরের পাশেও দাঁড়িয়েছেন। এমনকী ইন্ডিয়াকে নেতৃত্বে দেওয়ার প্রশ্নেও অনেকে এই দুজনের নাম প্রস্তাব করেছেন। সেই স্ট্যালিনের সঙ্গে কমিশনের গোপন অভিসন্ধি নিয়ে এবার সন্দেহপ্রকাশ করলেন তৃণমূলনেত্রী, যে ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মমতার অভিযোগ, চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিক অঞ্চলে ভোট হলেও শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এত বেশি আধিকারিকদের অপসারণ করা হয়েছে। কমিশনকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘৫১০ জন অফিসারকে পর্যবেক্ষক হিসাবে সরানো হয়েছে। পাঁচটা রাজ্যে ভোট হচ্ছে। কেরল সিপিএমের, তামিলনাড়ু কংগ্রেস আর স্ট্যালিনের, পুদুচেরি বিজেপির, অসম বিজেপির। শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫০০-র বেশি আইএএস আইপিএস-কে নিয়ে গিয়েছেন। বাদবাকি মাত্র ১০ জন চারটে রাজ্যের। আর আমাদের এখানে সবাইকে! কী ভাবছেন! মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ থেকে বহিরাগতেরা এসে ভোট করবে!’
সোমবার বেথুয়াডহরীর সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী এবং কমিশনকে একযোগে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, তার কেন্দ্র ভবানীপুরে এত নাম কাটা গেলেও এখানে তৃণমূলই জিতবে, বিজেপি কোনও সুবিধা করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমার ভবানীপুরে ৪০ হাজার নাম কেটেছে। তাতে আমার বয়েই গেছে।’ শুভেন্দু অধিকারীর হার নিশ্চিত জানিয়ে তৃণমূলনেত্রীর কটাক্ষ, ‘এবার তোমার আমও যাবে, ছালাও যাবে।’