দৈনিক সংবাদ অনলাইন :-তেলিয়ামুড়া মহকুমার কৃষ্ণপুর, বালুছড়া, মহারাণীপুর, উত্তর মহারাণী সহ পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই বন্যহাতির উপদ্রবপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে এই সমস্যার প্রকোপ আরও বেড়েছে। একাধিক প্রাণহানির ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি প্রায় প্রতিদিনই বন্য দাতাল হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাতির আতঙ্কে অনেকেই স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারছেন না।
বিশেষ করে কৃষকরা তাদের কৃষিজ পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করতে গিয়ে বড়সড় বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
এমনকী অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে
বেরোতেও ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর একটাই দাবি- হাতির আক্রমণ থেকে দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক। তবে অভিযোগ, বন দপ্তর কাগজে-কলমে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বেশ কিছুদিন আগে দপ্তরের তরফে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের কথা জানানো হলেও, বাস্তবে সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি বলেই দাবি স্থানীয়দের।
অন্যদিকে, সরকারি কোষাগার থেকে হাতির সমস্যা সমাধানে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাদের কথায়, আগে হাতি তাড়াতে এলাকাবাসীর হাতে বনদপ্তরের তরফে বাজি-পটকা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয়তাও আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, তেলিয়ামুড়া মহকুমায় হাতির আক্রমণ নতুন কোনও ঘটনা নয়, দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা চলে আসছে। কিন্তু আজও তার কার্যকর সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বিশেষে হাতিপ্রবণ এলাকাগুলিতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত রাখা যায়। অন্যদিকে, হাতির সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার কিংবা প্রশাসন অতি দ্রুত পরিকল্পিতভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুক এমনটা চাইছে এলাকাবাসী