অনলাইন ডেস্ক, আগরতলা: সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মানেই যে তা সত্যি, এমন নয়। সাম্প্রতিক ত্রিপুরাকে ঘিরে একাধিক ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হলেও পরে সেগুলির অনেককেই ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এবার ত্রিপুরার বড়মুড়া জঙ্গলে তথাকথিত ‘এলিয়েনের মতো পাখি’ দেখা যাওয়ার দাবি নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি। বন দপ্তর, পাখিবিদ, গবেষক কিংবা সরকারি সূত্র—কেউই এমন কোনো অজানা প্রাণী বা ‘এলিয়েন পাখি’ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও পোস্টগুলির ভাষা বিশ্লেষণ করলেও বোঝা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড়মুড়া অঞ্চলে বিরল প্রজাতির পাখি দেখা নতুন ঘটনা নয়। এলাকাটি হর্নবিল-সহ নানা প্রজাতির পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সত্যিই যদি সম্পূর্ণ অজানা কোনো প্রাণী বা নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলত, তাহলে বন দপ্তর, গবেষক এবং সংবাদমাধ্যম দ্রুত তার বৈজ্ঞানিক যাচাই করত। এখনও পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপ বা সরকারি ঘোষণা দেখা যায়নি।
এছাড়া দৃষ্টিভ্রমের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কম আলো, অস্বাভাবিক ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, নিম্নমানের ভিডিও, ভেজা পালক বা অসুস্থ পাখির অস্বাভাবিক চেহারা অনেক সময় পরিচিত প্রাণীকেও রহস্যময় বা ‘এলিয়েনসদৃশ’ বলে মনে করাতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন উদাহরণ আগেও বহুবার দেখা গেছে।
প্রযুক্তিবিদ ও ডিজিটাল কনটেন্ট বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), CGI বা VFX ব্যবহারের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁদের মতে, ছবিতে বেশ কিছু বড় অসঙ্গতি চোখে পড়ে—
১) মুখের গঠন অনেকটাই মানুষের বৃদ্ধ মুখের মতো, যেখানে কপালের ভাঁজ ও চোখের চারপাশের চামড়া মানবসদৃশ।
২) ঠোঁট, মুখ ও নাকের অংশে পাখি ও মানুষের বৈশিষ্ট্যের অস্বাভাবিক মিশ্রণ দেখা যায়।
৩) শরীর পাখির মতো হলেও ঘাড়, বুক ও ত্বকের টেক্সচার বাস্তব জীববিজ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
৪) ডানায় পালক থাকলেও শরীরের অন্যান্য অংশে টাক ও কুঁচকানো চামড়ার উপস্থিতি কোনো পরিচিত পাখি প্রজাতির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-নির্মিত ছবি বা ভিডিওতে বিভিন্ন প্রাণীর বৈশিষ্ট্য একত্রে মিশে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। ভাইরাল ছবিতেও সেই লক্ষণগুলি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ফলে এটিকে বাস্তব কোনো প্রাণী বা তথাকথিত ‘এলিয়েন পাখি’ বলে দাবি করার পক্ষে বর্তমানে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।
বর্তমান তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বড়মুড়ার জঙ্গলে ‘এলিয়েন পাখি’ দেখা যাওয়ার দাবি যাচাইহীন এবং অত্যন্ত সন্দেহজনক। বরং এটি AI-সম্পাদিত, CGI/VFX-নির্ভর অথবা ডিজিটালি পরিবর্তিত কনটেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।
ডিজিটাল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সামাজিক মাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিও দেখে আতঙ্কিত না হয়ে তার সত্যতা যাচাই করা উচিত। কারণ জনপ্রিয়তা অর্জনের লক্ষ্যে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট অনেক সময় অযথা গুজব ও আতঙ্ক ছড়িয়ে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার না করাই সচেতন নাগরিকের মৌলিক কর্তব্য হওয়া উচিত।