মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে এবার দুই তৃণমূল সাংসদ দেব ও জুন

কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা, ৯ জুন– সোমবার ফাটল ধরেছে তৃণমূলের সংসদীয় দলে, আর মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন  তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) এবং জুন মালিয়া। পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের এই বৈঠকে যোগ দেন জোড়াফুল শিবিরের আরেক বিদ্রোহী বিধায়ক শিউলি সাহা।

            বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙণের পরে সোমবার দিল্লিতে সংসদীয় দলেও ভাঙণ ধরেছে। জোড়াফুল শিবিরে যেন বেসামাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদেরা সোমবার দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। দুপুরে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে, তার পরে সন্ধ্যায় বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাড়িতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও গিয়েছিলেন দু’জায়গাতেই। দেবও গতকাল দিল্লিতেই ছিলেন। আর তার পরের দিনেই কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন দেব ও জুন।

            পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের দাবি জানান দেব। সেই আবেদনে সাড়া দেন মমতা। এবার তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানালেন ঘাটালের সাংসদ। মঙ্গলবার কোলাঘাটের এই প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে মূলত তিনটি জেলাকে নিয়ে— দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম। দেব ঘাটালের সাংসদ, জুন মেদিনীপুরের এবং শিউলি কেশপুরের বিধায়ক। জেলাগুলিতে উন্নয়নমূলক কাজে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট জেলার দলমত নির্বিশেষে বিধায়ক-সাংসদদের নিয়ে এগোনোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

            ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বিষয়ে দেবের আবেদন শুনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক বৈঠকের শেষ তিনি বলেন, ‘খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। ঘাটালের সাংসদ জানিয়েছেন, লোকসভা নির্বাচনের সময় উনি ঘাটাল মাস্টারে প্ল্যান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ওই পরিকল্পনা আমাদেরও প্রতিশ্রুতি ছিল। আমরা করব। উন্নয়নের স্বার্থে সবাই এক হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের সময় রাজনীতি করব। সারা বছর উন্নয়ন হবে।’ সাংবাদিক মুখোমুখি হয়ে সাংসদ দেব বলেন, ‘আগামী বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অর্থ বরাদ্দ করা হবে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল প্ল্যান নিয়ে বিগত সরকার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। আমি ঘাটালবাসীকে কথা দিয়েছি এইটা হবে। তার জন্যই  মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে আসা। আমি প্রথম থেকেই সৌজন্যের রাজনীতিই করেছি। আমার এলাকার কথা বলেছি।’ এর আগে কল্যাণীতে তিন জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন বারাসতের বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকার বিরোধীদের ডাকত না। আমরা তা চাই না। রাজনীতি হবে নির্বাচনের সময়। সারা বছর কাজ হবে। শাসকের আইন নয়,  আইনের শাসকই লক্ষ্য। আমরা সাধারণ মানুষের পাশে আছি।’

Sumit Chakraborty: