ব্যারাকপুর, উত্তর চব্বিশ পরগনা, ২৬ অক্টোবর- বিজেপিরই দুই বিধায়কের মধ্যে বেনজির সংঘাত এবার প্রকাশ্যে। টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনে অভিযুক্তরা বিজেপির মঞ্চে ওঠাকে কেন্দ্র করেই এবার চাপানউতোর তুঙ্গে উঠল। ওই দুই অভিযুক্ত বিজেপিতে নাম লেখালে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর। এমনকী এই ঘটনায় সাংবাদিক বৈঠকে নাম না করে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিংকে তোপ দাগলেন কৌস্তভ।
তার মন্তব্য, ‘আমাদের কিছু লোকের সঙ্গে মণীশ শুক্লার হত্যাকারীদের দেখা যাচ্ছে। এগুলো দেখতে ভাল লাগছে না।’ বেশ কয়েকটি ছবিও দেখান কৌস্তুভ। একই সঙ্গে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘উত্তম দাস (ব্যারাকপুরের প্রাক্তন পুর প্রধান) আর প্রশান্ত চৌধুরীকে (প্রাক্তন পুরপ্রধান টিটাগড়) বিজেপিতে ঢুকতে দেব না, দেব না, দেব না।’ এর পরেই নিজের মাথা কামানোর কথা বলেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক দৃঢ়তা সবাই জানেন। সাড়ে তিন বছর মাথা কামিয়ে রেখেছিলাম। অনেকে বিদ্রুপ করেছিল। বলেছিলাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার না-গেলে মাথায় চুল রাখব না।’ এরপরেই কৌস্তভের বিষ্ফোরক মন্তব্য, ‘দরকারে বিজেপির রাজ্য অফিসের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেব।’
তবে কৌস্তভের এ হেন মন্তব্যের জবাবে বিশেষ কিছু বলতে চাননি অর্জুন। তার কৌশলী মন্তব্য, ‘আমি জানি কীভাবে রাজনীতি করতে হয়।’ ২০২০ সালে টিটাগড়ের বিজেপি কার্যালয়ের সামনে খুন করা হয় মণীশ শুক্লাকে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয় তাঁকে। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে সাড়া ফেলে দেয়। তদন্তে উঠে আসে মণীশকে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করানো হয়েছে। এই ঘটনায় নাম জড়ায় বারাকপুরের তৎকালীন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরী। কৌস্তভের দাবি, সেই সময় শাসক শিবিরে থাকার ফলে উত্তম কিংবা প্রশান্তর কোনও শাস্তি হয়নি।
নতুন করে মামলা কীভাবে এগোনো যায়, তার প্রক্রিয়াও কৌস্তুভ চালাবেন বলে জানিয়েছেন। সেই প্রক্রিয়া তরান্বিত করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তো বটেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি সিআইডি এবং ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকেও চিঠি লিখছেন। গোটা ঘটনায় ব্যারাকপুরের বিজেপির অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল।