কলকাতা, ২৬ অক্টোবর– সোমবার বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেও এবার চোরবাগান সর্বজনীনের মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গ উঠে এল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতায়। এই বিপর্যয়কে কোনোভাবেই ‘ছোট ঘটনা’ বা ‘বিপর্যয়’ বলতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার জন্য দায়ী কাউকে সরকার আড়াল করবে না বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন তিনি। আগামী দিনে সুষ্ঠুভাবে সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে ও চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পরামর্শ চান মুখ্যমন্ত্রী।
তবে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এবার কাউকে পুজো করার জন্য হাই কোর্টে যেতে হয়নি। শুভেন্দুর অভিযোগ, আগে নির্দিষ্ট সময়ে মাইক বাজানো যেত না, আগে বলা হত নির্দিষ্ট রুট দিয়ে বিসর্জন হবে না। এর জন্য কোনও সম্প্রদায়কে দায়ী করতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, আগের সরকার মাথা নত করেছিল। বিগত সরকারের ব্যর্থতাতেই এসব ঘটনা ঘটত। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘ধর্ম যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্ব তার, মানুষ এটা বুঝেছে।’ শুভেন্দু জানান, চোরবাগান থেকে শিক্ষা নিয়ে ছট, জগদ্ধাত্রী, কার্তিক পুজোয় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুজো কমিটি ও প্রশাসনকে আগাম সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি।
চোরবাগানের ঘটনার পর আহত ২৫ জনকে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। সেই বিতর্কের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইগো দেখিয়ে কাউকে সরকারি হাসপাতালে আটকে রাখা হয়নি। প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সবাইকে বাড়িতে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, “এখানে ব্যর্থতার কিছু নেই। এখানে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার তুলনায় প্রাইভেট হাসপাতালের পরিষেবা ভালো। ইগো, অহংকার দেখিয়ে, হাম কিসি সে কম নেহি বলে সরকারি হাসপাতালে আটকে রাখিনি।”