ওয়াশিংটন, ৯ জুলাই : একদিন আগেই ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের ওপর লাগাতার হামলাও চালাচ্ছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানি সেনাও। এবার নিজের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আশঙ্কাপ্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, তাকে হত্যার ছক কষছে ইরান।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে শান্তি সমঝোতা চলছিল তা আপাতত স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে আমেরিকার তরফে। সরাসরি হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা। বুধবার বেশি রাতের দিকে ইরানের একের পর এক শহরে বিস্ফোরণ হয়েছে। চাবাহার বন্দরের কাছাকাছি এলাকাতেও হামলার খবর মিলেছে। আর সেই পরিস্থিতিতে এবার নতুন এক দাবি করে বসলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আশঙ্কা, মাঝ-আকাশে তার বিমানে হামলা হতে পারে। সে কথা বলে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ (মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান)-এর সব জানলা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ‘নেটো’র সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে আমেরিকায় ফেরার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এই আশঙ্কার কথা বলেন তিনি।
‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ যে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের সফরসঙ্গী ছিলেন তাদের নিজ নিজ আসনের পাশের জানলা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সম্ভবত একটি বিপজ্জনক বিমানে রয়েছেন। ওরা (ইরানিরা) খুব বাজে লোক… আমাকে সবসময়ই হুমকির মুখে থাকতে হয়। ওদের তালিকায় (হিট লিস্টে) একেবারে প্রথমেই রয়েছি আমি। আমার যদি কিছু হয়, তবে আপনাদেরও সেই একই অবস্থা হবে।’ এর পরে পরিবেশ কিছুটা হালকা করে ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আপনারা কোনও একদিন নিজেদের পেশা বদলে ফেলতে চাইবেন।’ ঘটনাচক্রে, যে বিমানে চেপে ট্রাম্প তুরস্কে গিয়েছিলেন, সেই বিমানে তুরস্ক থেকে ফেরেননি তিনি। ট্রাম্পকে সম্প্রতি একটি বিমান দিয়েছে কাতার। সেটিও এখন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহার হয়। লাল, সাদা এবং নেভি ব্লু রঙের ওই বিমানে চেপেই তুরস্কে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে সংবাদসংস্থা এপি জানাচ্ছে, ফেরার সময়ে কিছুটা পথ ট্রাম্প আসেন হালকা নীল রঙের পুরনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে চেপে। কী কারণে আচমকা এই বিমান-বদল করা হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়।