মেসি, এমবাপে, ইয়ামাল, হালান্ডদের সামনে কঠিন অগ্নিপরীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছে, যেখানে আর কোনও ভুলের সুযোগ নেই। আটটি দল বাকি, চারটি কোয়ার্টার ফাইনাল, আর প্রতিটি ম্যাচই কার্যত একটি ফাইনাল। ফ্রান্স-মরক্কো, স্পেন-বেলজিয়াম, নরওয়ে-ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড—এই চারটি লড়াই শুধু সেমিফাইনালের টিকিট নির্ধারণ করবে না, বরং ঠিক করে দেবে এবারের বিশ্বকাপের আসল দাবিদার কারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও পর্যন্ত পারফরম্যান্সের বিচারে স্পেন, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইংল্যান্ড ও নরওয়েকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে তিনি দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন এবং গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা। তবে শুধু মেসি নন, জুলিয়ান আলভারেজের গতি, এনজো ফার্নান্দেজের মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের পাসিং এবং ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর রক্ষণ আর্জেন্টিনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের শক্তি তাদের সংগঠিত ফুটবল। গ্রানিত জাকার অভিজ্ঞতা, ম্যানুয়েল আকাঞ্জির দৃঢ় ডিফেন্স এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ আর্জেন্টিনাকে সমস্যায় ফেলতে পারে। তবুও সামগ্রিক মান, অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণভাগের ধার বিচার করলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) ম্যাচসূচি:১০ জুলাই (শুক্রবার) রাত ১:০০টা — ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল বনাম মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল১১ জুলাই (শনিবার) রাত ১২:০০টা — স্পেন জাতীয় ফুটবল দল বনাম বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দল১২ জুলাই (রবিবার) রাত ২:৩০টা — নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল বনাম ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল১২ জুলাই (রবিবার) সকাল ৬:৩০টা — আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল বনাম সুইজারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলভারতীয় সময় (IST) অনুযায়ী এই চারটি ম্যাচের বিজয়ীরাই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে।

ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচটি ২০২২ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। ফ্রান্সের আক্রমণভাগ এখনও বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর। কিলিয়ান এমবাপে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে এবং অরেলিয়ান চুয়ামেনির মতো ফুটবলাররা ম্যাচের গতি মুহূর্তে বদলে দিতে পারেন। মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত রক্ষণ এবং অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নেতৃত্ব। তবে চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা ফ্রান্সের বিপক্ষে বড় ধাক্কা হতে পারে। কাগজে-কলমে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও মরক্কো ইতিমধ্যেই একাধিক শক্তিশালী দলকে হারিয়ে প্রমাণ করেছে তারা অঘটন ঘটানোর ক্ষমতা রাখে।স্পেন বনাম বেলজিয়াম লড়াইটি হবে দুই ভিন্ন দর্শনের ফুটবলের সংঘর্ষ। স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পজেশন ফুটবল খেলেছে এবং এখনও পর্যন্ত তাদের রক্ষণ প্রায় অভেদ্য। তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল, মাঝমাঠে রদ্রি এবং আক্রমণে নিকো উইলিয়ামস প্রতিপক্ষের জন্য বড় মাথাব্যথা। অন্যদিকে বেলজিয়ামের অভিজ্ঞতা কম নয়। কেভিন ডি ব্রুইনে, রোমেলু লুকাকু এবং চার্লস ডি কেটেলারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে গতি, ফিটনেস এবং সমন্বয়ের বিচারে স্পেনকে সামান্য এগিয়ে রাখছেন অধিকাংশ বিশ্লেষক।

ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে ম্যাচটিও কম রোমাঞ্চকর নয়। ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকা এবং ফিল ফোডেনের মতো তারকারা বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের এরলিং হালান্ড যে বিধ্বংসী ছন্দে রয়েছেন, তা যেকোনও প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের। তাঁর সঙ্গে মার্টিন ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা নরওয়েকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যদি ইংল্যান্ড হালান্ডকে আটকাতে না পারে, তাহলে ইউরোপের এই উদীয়মান শক্তি সেমিফাইনালে উঠে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।এখন পর্যন্ত সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিচার করলে স্পেনের ফুটবল সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ, ফ্রান্সের আক্রমণ সবচেয়ে বিস্ফোরক, আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ইংল্যান্ডের স্কোয়াড গভীরতা সবচেয়ে সমৃদ্ধ। তবে নরওয়ের হালান্ড, মরক্কোর দলগত লড়াই, বেলজিয়ামের অভিজ্ঞতা এবং সুইজারল্যান্ডের শৃঙ্খলাও যে কোনও মুহূর্তে হিসাব উল্টে দিতে পারে। বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে শুধু তারকা নয়, মানসিক দৃঢ়তা, বেঞ্চের শক্তি এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কে নিউ জার্সির ফাইনালে পৌঁছাবে এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুটের সবচেয়ে কাছাকাছি যাবে।

Sujoy Guha: