বাংলায় ফের ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল, ছাত্র সমাবেশে বার্তা মমতার

কলকাতা, ২৮ আগস্ট- তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ মঞ্চ থেকে বাংলার বিজেপি সরকারকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডের এই সমাবেশের শুরুতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা হলেও মমতা নিজে দাঁড়িয়ে সেই পরিস্থিতির সামাল দেন এবং দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি দাবি করেন, খুব তাড়াতাড়ি বাংলায় আরও একটা পরিবর্তন আসছে, তৃণমূল আবার ক্ষমতায় ফিরবে।

            শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যাথিড্রাল রোডের সভাস্থলে পৌঁছনো মাত্রই আচমকা তীব্র বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক গার্ডরেল ভেঙে মূল মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে চত্বর স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এমনকি অতিরিক্ত ভিড়ের মাঝে বেশ কিছু সাধারণ গাড়ি ও রোগী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়ে, যার কারণে প্রায় ২০-২৫ মিনিট সভার কাজ স্থগিত রাখতে হয়। তবে এতে বিচলিত না হয়ে স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী উদ্যোগী হয়ে গাড়িগুলি নিরাপদ স্থানে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পুনরায় ভাষণ শুরু করেন।

            সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক লাইভ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা যাতে শুধুমাত্র সমাজমাধ্যমে থাকেন এবং বাড়ির বাইরে না বের হন সেই ব্যবস্থা করা হবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দু। আজ তার পাল্টা জবাবে মমতা বলেন, ‘আমাকে নাকি রাস্তায় বেরোতে দেওয়া হবে না বলা হয়েছিল! কত বড় বুকের পাটা! মনে রাখতে হবে, গায়ের জোরে সবকিছু চলে না। রাজ্যজুড়ে এখন বিজেপির ক্যাডারদের মাতামাতি চলছে, কিন্তু বাংলার সাধারণ মানুষ এসব অত্যাচার বেশি দিন সহ্য করবে না।’ তারপরেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা, ‘চিন্তা করবেন না, বিজেপির অন্যায়ের জবাব বিজেপির লোকেরাই দেবে। খুব তাড়াতাড়ি তৃণমূল কংগ্রেস আবার সরকারে ফিরবে।’

            একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের মতোই এদিনও কালীঘাট তৃণমূলের পাশাপাশি অন্য একটি সভা করে ঋতব্রত তৃণমূল। তবে একুশে জুলাইয়ের মতোই মমতার সমাবেশে ভিড় ছিল চোখের পড়ার মতো। নিজের বক্তৃতায় আগাগোড়া বিজেপিকে নিশানা করেছেন তৃণমূলনেত্রী। তার মন্তব্য, ‘বিজেপি হাইলোডেড, হাইভোল্টেজ ভাইরাস। যেখানে যাবে, সর্বনাশ করবে।’ বিজেপিকে ‘অত্যাচারী’ বলে ছাত্র যুবদের বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দেন মমতা। তার কথায়, ‘রাজনীতি করে ছাত্রদের দমানো যায় না। ছাত্র আন্দোলন হলে বুক পেতে দাঁড়াবেন, বিজোপি হয়ে যাবেন না।’ পাশাপাশি পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলে মমতার বক্তব্য, ‘আপনাদের পরিবারের উপর অত্যাচার হলে সহ্য করতে পারবেন তো? বেঙ্গল পুলিশকে বিশ্বাস করে না সরকার। না হলে এত কেন্দ্রীয় পুলিশ প্রয়োজন পড়ছে কেন? আমরা কেন্দ্রীয় পুলিশ ছাড়াই ১৫ বছর সরকার চালিয়েছি।’

            বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে দলীয় পতাকা খোলার প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনে বিজেপির পোস্টার ছেয়ে গেছে, খুলতে পারবেন? বিজেপি দেখলেই পুলিশের ক্ষমতা ৫০ ইঞ্চি।’ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই বিজেপি ক্রমাগত অত্যাচার করছে বলে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার দাবি, কালীঘাটের বাড়ির সামনে প্রতিদিন রাত ১০টায় দু’টি পাগল পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বিরক্ত করতে মাতালদেরও বিজেপি কাজে লাগাচ্ছে বলেই অভিযোগ তার। মমতার কথায়, ‘প্রতিদিন রাত ১০টায় দুটো পাগল পাঠিয়ে দিচ্ছে মদ খাইয়ে। গালাগাল দিচ্ছে। মাতালদের কাজে লাগাচ্ছে।’ 

            অন্যদিকে রানি রাসমণি রোডে ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানমঞ্চে দাঁড়িয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, ‘মমতা সরকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্র আন্দোলনের প্রোডাক্ট। ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবিলম্বে করতে হবে।’ সরাসরি বিজেপি সরকারের বিরোধিতা করে ঋতব্রত আরও বলেন, ‘তৃণমূলের ভুলের উপর দাঁড়িয়ে সরকার চালাবেন না। এই সরকার যা বলেছিল সেই অনুযায়ী কাজ করছে না। মমতায়ন, অনিলায়ন করবেন না।’ কলেজ পরিচালন সমিতিতে কেন বিজেপি প্রতিনিধিরা, এদিন সে প্রশ্নও তোলেন ঋতব্রত।       

Sumit Chakraborty: