কলকাতা, ১০ জুন– লোকসভার পরে এবার রাজ্যসভাতেও তৃণমূলের ভাঙণ ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। আগেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়, ছেড়েছেন দলও। এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। তিনিও সাংসদ পদের পাশাপাশি তৃণমূলের সব পদ ছেড়েছেন।
লোকসভায় একঝাঁক সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানোর ধাক্কা সামলাতেই এখন জেরবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যেই এবার রাজ্যসভাতেও দলে এই রক্তক্ষরণ আরও অস্বস্তিতে ফেলেছে তৃণমূলনেত্রীকে। সুখেন্দুশেখর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। সুস্মিতা এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও মন্তব্য না করলেও ভবিষ্যতে তিনিও তৃণমূলের ‘একনায়কতন্ত্র’-এর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ।
বুধবার সাংসদ পদে ইস্তফা দেওয়ার পরেই বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা বাড়িয়ে দিল্লিতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে দেখা করেছেন সুস্মিতা। বুধবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র তুলে দেন সুস্মিতা। চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে সুস্মিতা তার ইস্তফাপত্র দ্রুত গ্রহণ করার আর্জি জানান। রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন ১৩ জন, দু’জন ইস্তফা দেওয়ায় সেই সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১১।
ইস্তফা দিয়েই সুস্মিতা জানিয়েছেন, এখন তিনি মুক্ত এবং স্বাধীন। যদিও নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে এখনও কোনও পরিকল্পনার কথা জানাননি। আসামের রাজনীতিক হয়েও পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্য বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সুস্মিতা। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখার প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বহু দিনের পরিচয়ের সুবাদেই হিমন্তের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি।
আসামের প্রখ্যাত রাজনীতিক তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা আসমের শিলচরের কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে হেরে যান তিনি। ২০২১ সালের অগস্ট মাসে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তাঁকে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল। ২০২১ সালে মানস ভুঁইয়া রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ার পর তার ছেড়ে যাওয়া আসনে সুস্মিতাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। সে বার তাঁর ভাঙা মেয়াদ শেষ হয় ২০২৩ সালের অগস্টে। সুস্মিতার পর ওই আসনে সামিরুল ইসলামকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। শান্তনু সেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের এপ্রিলে ফের রাজ্যসভায় যান সুস্মিতা। মেয়াদ শেষের আগেই সাংসদ পদে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা।