কলকাতা, ১০ জুন – বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরে তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙণ ধরেছে, তারপরেই ভেঙেছে সংসদীয় দল। আর সেই বিপর্যয়ের পরে এবার কংগ্রেস আর তৃণমূল আরও কাছাকাছি এসেছে। এবার কী তবে কংগ্রেস আর তৃণমূলের সংযুক্তিকরণ হতে চলেছে? এই জল্পনাই এবার রাজনৈতিক মহলে।
দুই দলের সংযুক্তিকরণ নিয়ে শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে বলেই একটি সূত্রের দাবি। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পরের দিন মঙ্গলবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার বুধবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর চারদিক থেকে যেভাবে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, সেই চরম দুর্দিনে জাতীয় স্তরে ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস দলকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরেই আবার ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন মমতা এবং অভিষেক। আর সেই সুদূরপ্রসারী কৌশলের অঙ্গ হিসেবেই মমতা-সনিয়া হাইপ্রোফাইল বৈঠকের ঠিক পরের দিনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রাহুল গান্ধীর দুয়ারে ছুটে গেলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু এই চরম দুঃসময়ে মমতাকে যদি কংগ্রেস গ্রহণ করে তাহলে প্রদেশ নেতৃত্ব কী তা মেনে নেবেন? সেই প্রশ্নও উঠেছে।
কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা আব্দুল মান্নান থেকে শুরু করে প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরি মমতাকে কংগ্রেসে ফিরিয়ে নেওয়ার বিরোধী। মান্নান বলেন, ‘আমার কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর আস্থা রয়েছে। নো অ্যালায়েন্স উইথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ একই সুর অধীরেরও। তার কথায়, ‘যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কংগ্রেস ভাঙিয়েছিলেন, তাকেই এবার গান্ধী পরিবারের কাছে গিয়ে হাতেপায়ে ধরতে হচ্ছে। পাপের ফল ভোগ করতে হবেই।’ তবে অন্য কথা শোনা গিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের গলায়। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধীকে ভাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে যারাই কংগ্রেসে আসবেন তাদের প্রত্যেককে স্বাগত।’ একটি সূত্রের মতে, মমতা এবং অভিষেককে কংগ্রেসে জাতীয় স্তরের পদে দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়েও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে।
বুধবার রাহুল গান্ধী এবং অভিষেকের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক চলে। দুজনের মধ্যে অত্যন্ত ‘ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক’ হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। লোকসভার ভিতরে ও বাইরে বর্তমান বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে আরও বেশি শক্তিশালী ও সঙ্ঘবদ্ধ করার বিষয়ে দুই যুব নেতার মধ্যে বিস্তারিত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।