কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা, বাইরেই অধিবেশন বসালেন চেয়ারপার্সন

কলকাতা, ২২ মে– বেনজির ঘটনা এবার কলকাতা পুরসভায়। বৈঠকের দিন নির্ধারিত থাকার পরেও পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা ঝোলানো দেখে হতভম্ব হয়ে যান কাউন্সিলাররা। ভেতরে প্রবেশ করা তো দূরের কথা, অধিবেশন কক্ষের তালা খুলতেই কেউ এলেন না। অনেকটা সময় অপেক্ষা করার পরে শেষ পর্যন্ত অধিবেশন কক্ষের বাইরেই সভার আয়োজন করতে হল চেয়ারপার্সন মালা রায়কে। মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও সেখানেই বসে থাকতে দেখা যায়।

            অতীতে কলকাতা পুরসভায় এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা কেউই মনে করতে পারছেন না। শুক্রবার পুরসভার মাসিক অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী কাউন্সিলরেরা এসেছিলেন। কিন্তু অধিবেশন কক্ষের সামনে এসে তারা দেখেন দরজায় তালা ঝুলছে। কক্ষটি খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন চেয়ারপার্সন মালা। কিন্তু তারপরেও তালা খোলা হয়নি বলেই অভিযোগ। তারপর একরকম বাধ্য হয়ে অধিবেশন কক্ষের বাইরে কাউন্সিলর্‌স ক্লাব রুমে সভার আয়োজন করেন মালা।

            ওই ঘরে অধিবেশনের উপযুক্ত আসনবিন্যাস নেই। নেই মাইকের ব্যবস্থাও। চেয়ার-টেবিলগুলিকে কাউন্সিলরেরা নিজেরাই সরিয়ে ঘরটিকে অধিবেশনের উপযুক্ত করার চেষ্টা করেন। তার পর সভা শুরু হয়। মাইক ছাড়াই সেখানে নিজের বক্তব্য জানান ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। তবে এই বিষয়ে প্রাথমিকভাবে খুব বেশি কিছু প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি মালা রায়। তিনি বলেছেন, ‘আমি তালা খুলে দেওয়ার কথা বলে পাঠিয়েছিলাম। অধিবেশন করব। আমরা প্রত্যেকেই এখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু এখনও সেই তালা খোলা হয়নি। তাই আমরা এখানে অধিবেশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকি কথা পরে জানাব।’ মেয়র নিজেও এ নিয়ে কোনও কথা বূলতে চাননি।

তবে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা কাউন্সলার অরূপ চক্রবর্তী। তার প্রতিক্রিয়া, ‘হতে পারে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু পুরসভা এখনও বৈধ। ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তার বৈধতা রয়েছে। পুরসভার অধিবেশনে সাধারণ মানুষের পরিষেবা নিয়ে কাজ হয়, আলোচনা হয়। তা বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগে এমনটা কখনও হয়নি।’ তৃণমূলের তরফে আগেই এই অভিযোগ করা হয়েছিল যে, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে চাইছে। এবার পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা ঝোলানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হলো।    

Sumit Chakraborty: