অনলাইন ডেস্ক কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল হতেই তৎপর হয়ে উঠেছে ট্রাফিক পুলিশ। বিশেষ করে হেলমেট বিহীন বাইকারোহীদের উপর কড়া নজর। রাজ্যে ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়ি বাড়তেই রাস্তায় বদলাতে শুরু করেছে বাইক আরোহীদের অভ্যাস। হেলমেট না পরলে সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা— এমন অভিযানে এখন শহর থেকে জেলা, সর্বত্র নেমেছে ট্রাফিক পুলিশ। আর তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। হেলমেটের দোকানগুলিতে এখন বাড়তি ভিড়, বিক্রিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।সম্প্রতি কলকাতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই হাজার হাজার হেলমেটবিহীন বাইক আরোহীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। শহরের বিভিন্ন ট্রাফিক গার্ড এলাকায় দিনরাত চেকিং চলছে। বিশেষ করে গলি ও উপশহর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, পথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। পশ্চিমবঙ্গে মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট অনুযায়ী হেলমেট না পরে বাইক চালালে ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করারও নিয়ম রয়েছে।
এই কড়াকড়ির জেরে এখন হেলমেটের দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, আগে অনেকেই শুধু পুলিশের সামনে পড়লে হেলমেট ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন নিয়মিত চেকিং হওয়ায় বাধ্য হয়েই অনেক বাইক চালক নতুন হেলমেট কিনছেন। বিশেষ করে ISI মার্কা হেলমেটের চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
তবে এর মধ্যেই নিম্নমানের হেলমেট বিক্রি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় কম দামের নকল বা নিম্নমানের হেলমেট বিক্রি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র জরিমানা এড়াতে নয়, নিজের নিরাপত্তার জন্যও মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার জরুরি।
ট্রাফিক দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও এই অভিযান চলবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ এলাকা, বাজার ও ব্যস্ত রাস্তায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। পুলিশের আশা, কঠোর অভিযানের ফলে যেমন দুর্ঘটনা কমবে, তেমনই মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতাও বাড়বে।