শনিবার | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘খানিকটা প্রেমের মতো’

 ‘খানিকটা প্রেমের মতো’

খানিকটা প্রেমের মতো’— এই নামটার মধ্যেই এক ধরনের নরম, ধূসর আবেগ লুকিয়ে আছে। এটি এমন এক অনুভূতির কথা বলে, যা পুরোপুরি প্রেমও নয়, আবার প্রেম নেই এমনও নয়।

ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষ্যে ‘আকাশ আট’ চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘খানিকটা প্রেমের মতো’। পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়ের ভাবনায় নির্মিত এই সিরিজে প্রেমকে দেখা হয়েছে এক নরম, ধূসর আবেগ হিসেবে— যা পুরোপুরি সংজ্ঞায়িত নয়, আবার অস্বীকার করার মতোও নয়। এই উপলক্ষ্যে সিরিজের উজান ওরফে অভিনেতা রাহুল দেব বোস, আজকের সময়ের প্রেম, সম্পর্কের জটিলতা এবং আবেগের বদলে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন। শুনেছেন আনন্দিতা সরকার

/////////////////////////////////////////////////

‘খানিকটা প্রেমের মতো’— এই নামটির মধ্যেই এক ধরনের আলাদা অনুভূতি ও দ্ব্যর্থকতা রয়েছে। প্রেমের দিনে সিরিজটির মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গে, নামের এই ভাবনা ও সমসাময়িক প্রেমবোধকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করতে চান?


খানিকটা প্রেমের মতো’— এই নামটার মধ্যেই এক ধরনের নরম, ধূসর আবেগ লুকিয়ে আছে। এটি এমন এক অনুভূতির কথা বলে, যা পুরোপুরি প্রেমও নয়, আবার প্রেম নেই এমনও নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রেমের ভাষা ও প্রকাশভঙ্গি বদলেছে, আর সেই পরিবর্তিত অনুভূতিরই প্রতিফলন এই নাম। আজকের সময়ে প্রেম আর আগের মতো স্পষ্ট সংজ্ঞায় বাঁধা থাকে না। অনেক সম্পর্কেই দ্বিধা, অনিশ্চয়তা এবং ভাবনার জায়গা থাকে। ঠিক সেই কারণেই অনেক সময় মানুষ অনুভব করেও বলতে পারে না— এটা প্রেম কিনা। তখনই সেই আবেগ দাঁড়িয়ে যায় ‘খানিকটা প্রেমের মতো’। ভ্যালেন্টাইনস ডে-তেই সিরিজটির মুক্তি পাওয়া তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ভালোবাসার দিন মানে শুধু পূর্ণতা বা চূড়ান্ত প্রেমের উদযাপন নয়, বরং সেই সব অসম্পূর্ণ, নীরব ও দ্বিধাগ্রস্ত অনুভূতিকেও জায়গা দেওয়া—যেগুলো আজকের প্রজন্মের কাছে খুব পরিচিত। বিশেষ করে জেন জি’ প্রজন্ম সম্পর্ককে তাড়াহুড়ো করে কোনও নাম দিতে চায় না। কেউ প্রশ্ন করলে, ‘প্রেম করছ?’— অনেকেই সহজভাবে বলে, ‘হ্যাঁ, খানিকটা প্রেমের মতো।’ এর মধ্যে একদিকে যেমন হেজিটেশন আছে, তেমনই আছে অনুভূতির প্রতি এক ধরনের সততা। আমাদের প্রজন্ম এবং তার সমসাময়িক সময়ের মানুষদের মধ্যেও প্রেম নিয়ে এই দ্বিধা কাজ করে। কেউ মনে করে, প্রেম বুঝি আগের মতো নেই— শুধু খানিকটা প্রেমের মতো হয়ে গেছে। আবার কেউ একে আজকের সময়ের সবচেয়ে সৎ সংজ্ঞা বলেই মেনে নেয়। আমার কাছে প্রেম মানে শুধু সম্পূর্ণতা নয়, কখনও কখনও অপূর্ণতাও। আর সেই অপূর্ণ, অনিশ্চিত অথচ গভীর অনুভূতিই হলো— ‘খানিকটা প্রেমের মতো’।

পরিচালক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব আসতে পারে। আপনার কি মনে হয় সত্যিই এরকম কোনও সম্ভাবনা আছে?


আমাদের সবারই খুব ইচ্ছে আছে গল্পটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এই গল্পের ভাণ্ডার খুবই বিশাল। একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গিয়ে এই সিজনটি শেষ হয়েছে, কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। এখন সবটাই নির্ভর করছে দর্শক কীভাবে এই গল্পটাকে গ্রহণ করছেন, কতটা ভালোবাসা দিচ্ছেন তার উপর। মানুষ যদি সত্যিই গল্পটা আরও দেখতে চান, তাহলে আশা রাখি— এই গল্প আবার ফিরে আসবে। তবে এটাও বলব, বর্তমান সিজনটি নিজের মধ্যেই খুব পরিপূর্ণ। পুরোটা না দেখলে সেই অনুভূতি বোঝা সম্ভব নয়।

পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায় এবং কো-স্টারদের সঙ্গে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

উজান ওরফে অভিনেতা রাহুল দেব বোস


এই টিমের কাজ সম্পর্কে আমি আগেই জানতাম, কারণ অনেকেই আমার পূর্বপরিচিত। রাহুল মুখোপাধ্যায়কে আমি এই মুহূর্তে বাংলার অন্যতম সেরা রোম্যান্টিক কমেডি পরিচালক বলেই মনে করি। তার গল্প বলার মধ্যে একটা আলাদা ফ্লেভার আছে, কোথাও যেন শাহরুখ খানের সিনেমার প্রতি এক ধরনের ট্রিবিউট দেখা যায়— যেটা আমাদের প্রজন্ম খুব ভালোবাসে। আমরা দু’জনই আগে থেকেই একসঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু উপযুক্ত স্ক্রিপ্ট পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে সেটা সম্ভব হয়েছে। আভেরি (সিংহ রায়)-র সঙ্গে আগে মঞ্চে কাজ করেছি, দুর্বার (শর্মা)-র সঙ্গে আলাদা আলাদা কাজ হলেও এই প্রথম একসঙ্গে অভিনয়। আর আমাদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি দেখে আমি নিজেই অবাক। যে কোনও গল্প দাঁড়ায় তার মধ্যে যে সম্পর্কগুলো বোনা হয় তার মাধ্যমেই। এই সিরিজে আমাদের দাদা-ভাইয়ের সম্পর্কটাও খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। মেঘা (চৌধুরী)-র কাজ আমি আগেই দেখেছি। ও খুব সিরিয়াস অভিনেত্রী, ওর সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে পুরো টিমটাই দারুণ ছিল। প্রতিদিন কাজের চাপ থাকলেও শুটিং শেষে আমরা সবাই হাসিমুখেই সেট ছেড়েছি। দুই প্রযোজনা সংস্থা যথাক্রমে স্টুডিও ব্লটিং পেপার এবং জিপি এন্টারটেইনমেন্ট-এর সমন্বয়েও কাজটা খুব সুন্দরভাবে হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে অভিজ্ঞতা সত্যিই খুব ভালো।

আপনাকে সাধারণত ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ কিংবা ডার্ক শেডের চরিত্রেই বেশি দেখা যায়। সেই জায়গা থেকে হঠাৎ প্রেমের গল্পে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত কেন? শুধুই কি স্বাদবদল?


আমি এতদিন মূলত সিরিয়াস বা ডার্ক শেডের চরিত্রেই কাজ করেছি। তাই এই সিরিজে প্রেমের গল্পে নিজেকে তুলে ধরাটা আমার কাছেও এক নতুন অভিজ্ঞতা। ‘আকাশ আট’ চ্যানেলের অনেকেই মজা করে বলেছিলেন—রাহুল দেব বোসকে ‘উজান’ চরিত্রে কীভাবে ভাবলেন পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়! (হাসি) আসলে রাহুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কথা হচ্ছিল, কবে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। শেষ পর্যন্ত ‘উজান’ চরিত্রের জন্য আমাকে নির্বাচন করা হয়। রোম্যান্টিক কমেডি করার ইচ্ছে আমাদের জেনারেশনের অভিনেতাদের বরাবরই থাকে, কিন্তু এখন এই ধরনের কাজ খুব কম হচ্ছে। ডার্ক ও সিরিয়াস কনটেন্টের দিকেই ঝোঁক বেশি। আমি অভিনয় শুরু করি ২০১৭ সালে, তখন থেকেই ডার্ক কনটেন্টের চল। তাই প্রথম থেকেই রম-কম করার একটা ইচ্ছা ছিল। স্টেজে কাজ করার সময় কমেডিই ছিল আমার স্পেশালাইজেশন। স্ক্রিনে এসে দর্শক আমাকে ডার্ক চরিত্রেই বেশি গ্রহণ করেছেন, তবু ব্যক্তিগতভাবে আমি রোম্যান্টিক কমেডি করতে চাই। আমি শাহরুখ খানের বড় ভক্ত, ওর সিনেমাগুলো আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করে। এখন কেরিয়ারের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে একটু এক্সপেরিমেন্ট করতে চাই। দর্শক যেন আমাকে নানা রূপে দেখেন— এটাই আমি চাই। ঝুঁকি নিতে আমার ভালো লাগে। তাই আগামী দিনে আরও নানা ধরনের চরিত্রে আমাকে অভিনয় করতে দেখা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *