বিরোধীরা ‘গোল্লা’ পাবে, কটাক্ষ তৃণমূলনেত্রীর

হাওড়া, ২৪ এপ্রিল – প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদানের পরে বাংলায় জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ দাবি করেছেন, তাদের দলের অন্দরের সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, এই ১৫২ টি আসনের মধ্যে ১১০ টি আসনে জয়ী হবে বিজেপি। আসন যেমন বাড়বে, জয়ের ব্যবধানও বাড়বে বলে দাবি করেছেন শাহ। তার পাল্টা শুক্রবার নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বিজেপির আসন এবার কমবে। আগে জেতা আসনেও এবার বিজেপি ‘গোল্লা’ পাবে।

            হাওড়ায় আজ সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি নিজের বিধানসভা এলাকা ভবানীপুরেও একটি রোড শো করেন। হাওড়া থেকে মমতা বলেন, ‘আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদে বিরোধীরা গোল্লা পাবে। এত গর্জন করছেন যে মনে হচ্ছে সব সিটে আপনি জিতে গিয়েছেন। ঘেচু। আমাদের যে মাইনাস জায়গাগুলো ছিল, কাল আমরা এগিয়ে গিয়েছি। শুধু ৪ তারিখ ফল বেরোলে দেখবেন। তখন জ্বলবেন, আর লুচির মতো ফুলবেন।’ সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘৪ তারিখের পরে তোমার দেখা নাই গো, তোমার দেখা নাই। আর কাউকে পাবেন না। বাংলা কামড়ে প্রশাসনকে নিয়ে অমিতবাবুকে মিটিং করতে হয়েছে। ভয় দেখাচ্ছেন সকলকে। কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? ’

            যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা হচ্ছে না। রাজ্যের অন্যতম এবং নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করতে পারছে না রাজ্য সরকার। শুক্রবার বারুইপুরে রাজনৈতিক সভা থেকে এমনই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন মমতা। তবে সভা থেকে জবাব দেওয়ার আগেই সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা তৃণমূলনেত্রী লেখেন, ‘জিজ্ঞেস করতে কষ্টই হল— বিখ্যাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্কে এ ভাবে বর্ণনা করা যায়? এটাই কি আপনার শালীনতা এবং সৌজন্যবোধের ধারণা? আপনি কি এত নীচে নেমে গিয়েছেন? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা তাদের মেধা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ডিগ্রি নিয়ে, বুদ্ধি নিয়ে, প্রশ্ন করার ক্ষমতা নিয়ে বেরিয়েছেন। এটা তো অরাজকতা নয়। এটাই শিক্ষা এবং এটাই শ্রেষ্ঠত্ব।’ সভা থেকে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছাত্রছাত্রীরা আমাদের গর্ব। আমাদের যুবক-যুবতীরা আমাদের গর্ব। আমাদের ভাই-বোনেরা আমাদের গর্ব। আজ যাদবপুরের পড়ুয়াদের একজন প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, আমি মনে করি ছাত্রসমাজ, যুবসমাজের এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত। বলছে ওখানে নাকি নৈরাজ্য চলছে। তুমি এক পয়সাও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছ? তুমি কি জানো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ১ নম্বর র‍্যাঙ্কে আছে? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি, সেন্ট জেভিয়ার্স আছে। মাথায় ঢুকিয়ে নিও।’

            এসআইআরে যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাদের নাম আবার তালিকায় তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেন মমতা। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘এসআইআর-এ নাম বাদ দিয়েছে এই বিজেপি। ১ কোটি ২০ লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছিল। একমাত্র তৃণমূল কংগ্রস আপনাদের জন্য লড়েছে। আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করে ৩২ লক্ষ লোকের নাম তুলে দিয়েছি। বাদ বাকিদেরও তুলব আগামী দিনে।’ এদিন প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, বাংলার অনেক জেলায় তৃণমূল খাতা খুলতে পারবে না। পাল্টা মমতা বলেন, ‘গ্রামবাংলায় ৯৩% ভোট, সব ভোট মোদীবাবুর বিরুদ্ধে। তোমরা এসআইআর-এর নামে মানুষের উপরে অত্যাচার করেছ। প্রায় ৩০০ জন মারা গিয়েছে। কালকেও ভোটের লাইনে চারজন মারা গিয়েছে। মনে রাখবেন, মানুষ ক্ষমা করবে না।’ আবার জগৎবল্লভপুরের সভা থেকে হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তিনি বলেন, ‘আগামী ৪ তারিখের পর হিসাব হবে।’ অভিষেক বলেন, ‘আমি জ্যোতিষী নই। তবে আমি যখনই রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছি, তা মেলে। ২০২১ সালে মিলেছে, ২০২৪ সালে মিলেছে, আর এ বারও মিলবে। আমি এখানে বলে দিয়ে যাচ্ছি। তৃণমূল কংগ্রেস কাল (বৃহস্পতিবার) সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে।’

            শুক্রবার মোদির নৌকোবিহারকেও কটাক্ষ করেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, ‘কখনও ছাত্রছাত্রীকে অ্যাটাক করছো। কখনও মা-বোন নাকি রাস্তায় হাটতে পারে না বলছো। আজ আবার উনি নৌকাবিহার করেছেন। আমি বলি, পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা আর আপনার দিল্লির যমুনা মিলিয়ে নিন। পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা পরিষ্কার। তাই নৌকাবিহার করে হাওয়া খেয়েছেন সকালবেলায়। এটা ভোটের রাজনীতি। ফটোশপিং। চ্যালেঞ্জ করছি, গঙ্গায় নৌকাবিহার করেছেন, ভাল করেছেন। স্বাগত। আমিও যাই চন্দননগরে পুজোর সময়ে গঙ্গাবিহার করতে করতে। আমি গঙ্গাসাগরেও যাই। আপনি একবার দিল্লির যমুনাতে ডুব দিয়ে আসবেন? দিল্লির যমুনা ক্যায়সা হ্যায়, পুরা দূষণ হ্যায়, পলিউটেড হ্যায়। আপনি দিল্লির যমুনাকে সামলাতে পারেন না। আর আমাদের গঙ্গায় এসে ফটো তোলেন।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘আপনার চেয়ারের তো একটা রেসপেক্ট আছে! আপনি মিটিংয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলছেন, ইলেকশন হয়ে গেলে সকলকে পা নীচে করে আর মাথা উপরে করে ঝোলাবেন? আর পেটাবেন? এ কি আপনার মুখে সাজে? এত বাজে কথা। এত খারাপ ভাষায় কথা বলতে পারেন। এত নির্লজ্জ কথা বলতে পারেন। বলে নাকি আমি কলকাতাকে বস্তি বানিয়ে দিয়েছি। এই তো চারদিকে দেখতে পাচ্ছি আপনাদের বড় বড় বাড়ি। কেউ গরিব থাকবে, কেউ বড়লোক থাকবে। শুনুন সকলকে নিয়েই চলতে হয়। তুমি গরিবকে বলছো, মমতাদি কলকাতাকে বস্তি বানিয়ে দিয়েছে। আরে কলকাতা দেশের মধ্যে এক নম্বর শহর। এটা এখন শিল্প এবং পর্যটনের ডেস্টিনেশন। আমাদের দুর্গাপুজো ইউনেসকোর হেরিটেজ।’    

Sumit Chakraborty: