একটা রাষ্ট্রে পুলিশি ব্যবস্থা থাকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য।সেই পুলিশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয় যখন সারা শাসন ব্যবস্থায় থাকে তাদের দ্বারা। তাই পুলিশকে বিরোধীরা পুলিশের নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষজন ‘জনদাস’ বলে থাকেন। পুলিশ সবসময়ই রাষ্ট্রের নির্দেশেই কাজ করে। অথচ পুলিশের কাজ করার কথা নিয়ম মেনে, আইন মেনে, সংবিধান অনুযায়ী। কিন্তু পুলিশ কি তা করে? তাই অনেক সময়ই সাধারণ্যের চোখে পুলিশ হয়ে ওঠে ভিলেন। এদেশে পুলিশের নির্যাতন, লকআপে নির্যাতন, লকআপে পিটিয়ে মারা কিংবা এনকাউন্টার করিয়ে হত্যা করা, আন্দোলন ঠেকাতে দমনপীড়ন চালানো, লাঠিচার্জ করা, এমনকী প্রয়োজনে গুলী চালানো। পরবর্তীতে ধরপাকড় সবটাই পুলিশের কাজ। আবার একটা অংশের পুলিশ প্রহরায় নিযুক্ত। নেতামন্ত্রী, আমলাদের সহ ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকে।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালকদের নির্দেশে এবং প্রশাসনের অঙুলি হেলনেই পুলিশ কাজ করে থাকে। কিন্তু এই পুলিশ যখন যারা ক্ষমতায় বসে থাকেন তাদেরই নির্দেশ মানে না বা ক্ষমতাধারীদের অনাস্থার শিকার হন তাহলে এমন পুলিশকে কি বলা হবে? সম্প্রতি এ রাজ্যেও বেশ কয়েকটি ঘটনার দিকে তাকালেই দেখা যাবে কি কীভাবে পুলিশের কাজকর্মে ঘুণ ধরেছে। পুলিশ এখন পুরোপুরি তল্পিবাহক ছাড়া আর কিছুই নয়।
সম্প্রতি এডিসি ভোটের দিন একটি দলের এক রাজনৈতিক কর্মী এক পুলিশ আধিকারিককে প্রকাশ্যে চড় কষিয়ে দেন। এই ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে কি না তা কারো জানা নেই। দ্বিতীয়ত এক জনপ্রতিনিধি প্রকাশ্যে পুলিশের ওসিকে ধমকাচ্ছেন। অডিও ভাইরাল হয়েছে। ওসিকে হুমকি দিচ্ছেন যে ওই ওসি নাকি অন্য রাজনৈতিক দলের তাবেদারি করছেন এবং এক্ষেত্রে ওই বিধায়কের দাবি যে ওসি ঘুষ খেয়ে এহেন কাণ্ড করছেন।
তৃতীয়ত যে ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে তা হলো কাকড়াবন থানায় প্রকাশ্যে তালা ঝুলিয়ে ওসির কাজকর্মের প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন কারা? আর কেউ নন। যারা এ রাজ্যের ক্ষমতায় রয়েছে তাদের দলের নেতৃত্ব প্রকাশ্য থানায় তালা দিচ্ছেন।
উপরোক্ত তিনটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে, পুলিশে কী আস্থা কমছে শাসক দলের। যে তিনটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে তাতে দুটি ঘটনাতে শাসক বিজেপি দল প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত অপর ঘটনায় বিজেপির শরিক দল যুক্ত। তা পুলিশের উপর তাদের রাগ কেন? এককথায় পুলিশ কথা শুনছে না। পুলিশ শাসকের কথা শুনে কাজ করবে। এটাই তো অলিখিত নিয়ম। তো পুলিশ যদি কথা না শুনে তাহলে এ রকমটা তো হবারই কথা। এবং তা হলো।
আসলে পুলিশ বর্তমান সময়ে শাসকের পুরো দলদাস হয়ে আছে। রাজ্যে রাজ্যে যেখানে যেখানে শাসক যে রকম পুলিশও সে রকম। পুলিশ নিজের মেরুদণ্ড সোজা রেখে কাজ করতে পারে না বলেই পুলিশের এত বদনাম।
সবচেয়ে মজার ঘটনা হলো শাসক দল পুলিশকে পেটাচ্ছে, ধমকাচ্ছে, থানায় তালা লাগাচ্ছে কোনো বিচার নেই। কোনো ব্যবস্থা নেই। পুলিশ মার খাচ্ছে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না খোদ পুলিশই। সিস্টেম যেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবার উল্টোদিকে ভাবলে যদি এই সমস্ত ঘটনা বিরোধী দলের কর্মকর্তারা ঘটাতো তাহলে পুলিশ কি চুপ হয়ে বসে থাকত। পুলিশ তখন থাকত অ্যাকশন মুডে। বিরোধীদের প্রতি পুলিশের ব্যবহার কিংবা সাধারণ মানুষ, ছাত্র, যুবক, যারা অনেক সময় আন্দোলন করে তাদের উপর পুলিশ বল প্রদর্শন করে। কিন্তু যখন পুলিশই আক্রমণের শিকার হয় তখন পুলিশকে বাঁচানোর জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। রাষ্ট্রও না। তাই পুলিশকে বলতে ইচ্ছা করে পুলিশ আসলে তুমি কার।