কলকাতা, ৬ জুলাই– দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে এক কিশোরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। ওই কিশোরীর পরিবার আগেই দাবি করেছিল, গণধর্ষণের শিকার হয়েছে সে। অবশেষে খুনের অভিযোগের পাশাপাশি ধর্ষণের মামলাও দায়ের করা হলো। সোমবার বারুইপুর আদালতে গণধর্ষণের ধারা ৭০ (২)-ও যোগ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনকে সোমবার আদালতে হাজির করানো হয়। তাঁদের ১৪ দিনের হেফাজতে চেয়েছে পুলিশ। সোমবার ধৃত তৃতীয় জনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করানো হবে।
বারুইপুর কান্ড নিয়ে এদিন মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, মূল অপরাধীদের যেমন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, তেমনই পরিস্থিতি উত্তপ্তকারী ‘ভোটহারা অতৃপ্ত আত্মাদের’ এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যা তারা ভাবতেও পারছে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরই তিনি নির্যাতিতা কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন এবং শোকগ্রস্ত পরিবারটি প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি কালকেই ওর বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। ওর বাবা এই জঘন্যতম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। আমি তদন্তের মাঝপথে বিস্তারিত কিছু বলব না, তবে এটুকু নিশ্চিত করছি—পরিবার যেভাবে জাস্টিস চেয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা চেয়েছে, তার প্রত্যেকটি তারা পাবেন। ওঁরা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন।’
রবিবার বারুইপুরে উত্তেজিত জনতার হামলায় সিআরপিএফের দু’জন জওয়ান আহত হয়েছেন এবং পুলিশের একটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ও বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাকে কোনওভাবেই লঘু করে দেখছে না নবান্ন। মূল ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ (মৃত্যুদণ্ড) দেওয়া হবে। কিন্তু একই সঙ্গে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা নতুন করে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ‘অল-আউট’ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ‘বাকি তিনটে হিংসাত্মক বিষয়ে যারা যুক্ত, যারা আসলে অতৃপ্ত আত্মা, ভোটে হেরে গিয়ে যারা এতদিন ঘরে ঢুকে গিয়েছিল এবং এখনও ঢুকেই আছে—সেই তিন প্রধান শক্তি মিলে এই কাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে। এদেরও কিন্তু ভুগতে হবে। এমন ভোগাবো যে বুঝতে পারবে।’