কলকাতা, ৬ জুলাই– ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পরে একবারই হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে বক্তব্য রাখলেও আর তাকে পথে দেখা যায়নি। এবার বারুইপুরকান্ডের প্রতিবাদে মোমবাতি হাতে পথে নামলেন মমতা। স্লোগান উঠল, ‘তোমার সুর আমার সুর, জাস্টিস ফর বারুইপুর।’
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে এক কিশোরীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পরিবারের তরফে দাবি করা হয়, তাদের পরিবারের ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সোমবার সেই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার নিজের কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকেই মোমবাতি হাতে মিছিল শুরু করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বাড়ির গলির সামনেই মমতা ও তৃণমূলের নেতা কর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় মিছিল। এই নিয়ে মমতার বাড়ির সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে বারুইপুরের ঘটনায় বাইরে না বেরতে পারেন সেজন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তার বাড়ির সামনে ঘিরে দেওয়া হয়। অবশেষে এদিন এই ঘটনায় পথে নামলেন মমতা।
সোমবারের মিছিলের মূল স্লোগান ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’। মমতার পাশে এদিন দেখা গিয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের মহিলা নেতৃত্বকে। বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড, মোমবাতি হাতে মিছিলে শামিল হন দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, অপরূপা পোদ্দাররা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে ব্যাপক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। মিছিলটি মমতার কালীঘাটের বাড়ির গলি থেকে বেরতে গেলেই বাধা দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় মিছিল। পরে মমতা নিজের কালীঘাটের বাড়িতেই মিছিল শেষ করেন। রবিবার নির্যাতিতার বাবার সঙ্গেও কথা বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মিছিলে নামার ঠিক আগেই এক্স হ্যান্ডেলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ শানায় তৃণমূল। বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে রাজ্য বিজেপি ও মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানকে নিশানা করে তৃণমূল লেখে, ‘মিস্টার শুভেন্দু অধিকারী, আপনি এক চরম ভণ্ড! ঠিক যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাগাতার অত্যাচার চলা সত্ত্বেও মণিপুরে যাওয়ার সময় পাননি, তেমনই আপনার নজরদারিতে বারুইপুরে যে ছোট বাচ্চাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হল, তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সময় আপনি পেলেন না।’ ফেসবুক লাইভ করে মমতা বলেছেন, ‘আমি যখন থেকে ঘটনাটি শুনেছি, খুবই উদ্বিগ্ন। এর আগেও ভগবানপুর, পটাশপুর, কোচবিহারে, দুর্গাপুরে, বেহালায়, দিনহাটায়, পানিহাটিতে অনেক জায়গায় অনেক মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছিল। আজকে বারুইপুরের যে ঘটনা এক মারাত্মক রূপ নিয়েছে, কারণ মানুষ সহ্য করতে করতে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।’