কলকাতা, ২৬ আগস্ট- সরকারিভাবে পুরভোটের দিন এখনও ঘোষণা হয়নি। কিন্তু তার অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। কলকাতা পুরসভার ভোটে দলের তরফে ইন-চার্জের দায়িত্ব পাওয়ার পরের দিনেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দাবি করলেন, এবার তাদের দল দেড়শোর বেশি আসনে জিতবে।
বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে কলকাতা পুরসভা এলাকার ১৪৪ টি ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব আনা হয়েছে সরকারের তরফে। সেখানে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে ২০৯ করার কথা বলা হয়েছে। যদিও এ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল, কংগ্রেস, বামেদের মতো বিরোধী দলগুলি। বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে ১৪৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০১ টি ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি। আর সেই নিরিখে বিজেপির দাবি, এবার ভোটে ১৭০ থেকে ১৮০ টি ওয়ার্ডে জয় পাবে দল। ছোট লালবাড়ি দখল শুধুই এখন সময়ের অপেক্ষা। সুকান্তর দাবি, বিজেপি জিতলে কলকাতা একজন সনাতনী মেয়র পাবে।
সূত্রের খবর, আগামী নভেম্বরেই হতে পারে কলকাতা পৌরসভার নির্বাচন এবং আগামী সাত ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠন করার বিষয়ে একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই কৌশল সাজাচ্ছে শাসক শিবির। শোনা যাচ্ছে, বিধানসভা নির্বাচনের আদলেই পুরভোটেও প্রতিটি ওয়ার্ডে চার্জশীট দাখিল করবে বিজেপি। তৃণমূলের বোর্ড যে পুর পরিষেবা দিতে ব্যর্থ সেই কথাই তুলে ধরা হবে সেখানে।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করেন সুকান্ত মজুমদার। সেখানে তিনি জানান, কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একটি এসওপি তৈরি করবে দল। সেই এসওপি অনুযায়ী প্রার্থী বাছাই হবে। সমাজের সব স্তরের মানুষকে তালিকায় রাখা হবে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষকেই অগ্রাধিকার দেবে দল। এছাড়াও যারা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে জড়িত তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দলের সকলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী বাছাই করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এর পাশাপাশি বিজেপির ‘অতি উৎসাহী’ নেতাদের সতর্ক করে দেন সুকান্ত। তার কথায়, ‘কেউ যদি মনে করে আমি প্রার্থী হয়ে গিয়েছি, তাহলে পরে তাকে আফসোস করতে হবে। তখন আফসোস করবে, কাঁদবে।’
সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সুকান্ত। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে বাংলার মানুষ। আমরা তো চাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ভোটে দাঁড়ান। উনি যে ওয়ার্ডে দাঁড়াবেন সেখানেই হারাব।’ তিনি বলেন, ‘যে পুরসভার লোগোতে তিনদিকে পদ্মফুল ও একদিকে স্বস্তিক আছে সেখানে আগামীদিনে সনাতনী মেয়র বসবে। কলকাতা পুরসভা পুরনো হৃতগৌরব ফিরে পাবে।’
মঙ্গলবারই কলকাতা পুর নিগমে আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে আলোচনাতেও এভাবে দ্রুত আসনবিন্যাসের প্রতিবাদ করেন বিরোধীরা। তৃণমূলের কাউন্সিলার বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আসন বাড়ানোর জন্য এত তাড়াহুড়ো কীসের। এটা করতে গেলে তো সময় নেওয়া দরকার।’