কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর- বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে এসে ফের রাজ্যের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, গেরুয়া শিবির নিজেদের ভিতরের রাজনৈতিক পরিকাঠামো নিজেরাই ধূলিসাৎ করছে এবং এর ফলে তাদের পায়ের তলার মাটি দ্রুত আলগা হয়ে পড়ছে। বিজেপির অন্দরের পরিস্থিতি এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘আপনারা কি মনে করেন আপনাদের ওই হাতের পুতুলগুলিই (পাপেট) একমাত্র বিরোধী, যারা আপনাদের পকেটে রয়েছে? বিজেপি নিজের দলের কর্মীদের ওপরই অত্যাচার চালাচ্ছে, আর সেই ক্ষোভ ঢাকতে এই সব পুতুলদের আগলে রাখছে।’
কারও মতামত না নিয়ে একতরফাভাবে জনগণনার কর্মসূচি শুরু করার বিরুদ্ধেও কড়া সুর চড়ান তিনি। হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেছেন, ‘আপনারা সিজেপির আন্দোলন দেখেছেন, কিন্তু বাংলার ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন কিংবা মা-বোনেদের প্রতিবাদ এখনও দেখেননি! প্রয়োজন পড়লে এই বিরোধিতার আঁচ এবার কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হবে।’ এখানেই থামেননি মমতা। নতুন সরকারের চার মাস পূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, ‘চার মাস হয়ে গেল, তবুও ওদের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ যেন শেষই হচ্ছে না! বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, হকার ও ছোট দোকানদারদের রুজি-রুটিতে আঘাত হেনে দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশি অত্যাচার যেভাবে চরমে উঠেছে, বাংলায় এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি।’ সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলার অস্তিত্ব আজ বিপন্ন হতে চলেছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ভূলুণ্ঠিত। রাজ্য সরকার আজ ঔদ্ধত্য ও অহংকারের শীর্ষে পৌঁছেছে। যখনই দেখতে পাচ্ছে কেউ তাদের পক্ষে নেই, সংবাদমাধ্যমের অফিসে গিয়ে পর্যন্ত গেরুয়া রং করা হচ্ছে। এদিকে, সরকারি অনুষ্ঠানে এখন গেরুয়া কার্পেটের ওপর দিয়ে হাঁটা হচ্ছে! সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেখানে নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার থাকবে কী করে!’