কলকাতা অফিস, ৩ সেপ্টেম্বর– বাংলার বেহাল শিক্ষা পরিষেবা ইস্যুতে এবার বাম ও তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের একটি অনুষ্ঠানে তিনি কটাক্ষের সুরে দাবি করেছেন, চৌত্রিশ বছরে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে বাধা দিয়েছে কমিউনিস্টরা। ইংরাজিতেও তালাচাবি দিয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে তোষণের রাজনীতির শিকার হয়েছে স্কুলের সিলেবাস। ভাষাও বিকৃত করা হয়েছে। মাকে করেছে আম্মা, জলকে পানি, আকাশকে আসমান করে দিয়েছে। এভাবেই বিভাজন ঘটানো হয়েছে শিশুমনে।
বৃহস্পতিবার গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনে আরএসএসের শাখা সংগঠন বিবেকানন্দ বিদ্যা ভারতী বিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূল আমলের ১৫ বছরের মধ্যে গত ১০ বছরে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে সরব হন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিক্ষা ব্যবস্থাকে দূষিত করেছে তৃণমূল। স্কুলের সিলেবাসে সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানোর কথা থাকলেও ছিল না শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদানের কথা। জেলে যাওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল। কিন্তু ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরার নাম খুঁজতে পাতা ওলটাতে হত। আর কিছুদিন এই শিক্ষাব্যবস্থা চললে বাংলার সংস্কার, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ হারিয়ে যেত বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলায় সরকারের পরিবর্তন সঠিক সময়ে হয়েছে বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, বাংলায় সংস্কার প্রয়োজন, দেশপ্রেম ফেরাতে না পারলে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে। এছাড়াও তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান সরকার পুঁথিগত বিদ্যায় বিশ্বাস করে না। যে শিক্ষার মধ্যে দিয়ে মানুষের চরিত্র গঠিত হয়, মানুষ স্বনির্ভর হতে পারে সেই শিক্ষাই সঠিক শিক্ষা। আবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা নিয়েও আজ ফের মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘বাংলা নেতাজি, শ্যমাপ্রসাদ ভূমি। স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আর এই ভূমিতে আপনি বলবেন কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! পহেলগাম হলে মিছিল হয় না আর অপারেশন সিঁদুর হলে বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করুন। এগুলো আমাদের সহ্য করতে হবে? যাদবপুরের দেওয়ালে লিখবেন ফ্রি প্যালেস্টাইন? লিখুন ফ্রি পিওকে। সমর্থন করব।’