মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম দিল্লি সফর, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শুভেন্দুর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা, ২২ মে- দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এটাই তার প্রথম দিল্লি সফর। শুক্রবার দিনভর দিল্লিতে একাধিক কর্মসূচি ছিল তাঁর। বিকেলের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রীর হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি তুলে দেন তিনি। তাতে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা রয়েছে। 

            কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে গত ৯ মে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বিজেপির রীতি অনুযায়ী, দলের কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। নিজের রাজ্যের দাবিদাওয়া তার কাছে তুলে ধরেন। সেই রীতি মেনেই এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেন্দুর এই সাক্ষাৎ। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, বাংলার মানুষ যাতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা পেতে পারেন সেজন্য বাংলার সরকার সব পদক্ষেপ নেবে বলে আগেই জানিয়েছেন শুভেন্দু। এবার দিল্লি সফরে গিয়েই একের পর এক বৈঠকে যোগ দিয়ে বাংলার সেই দাবিদাওয়া তুলে ধরছেন তিনি। সূত্রের খবর, শনিবার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ‘আয়ুষ্মান মন্দির’-এর আদলে বাংলাতেও বিনামূল্যে চিকিৎকেন্দ্র চালু করার জন্য শনিবারের এই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা যাচ্ছে। আয়ুষ্মান মন্দির চালু করার জন্য শনিবার দুপুর বারোটা নাগাদ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্য সরকারের ভারচুয়াল বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  

            শুক্রবার দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। দিন দুয়েক আগেই সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী (বিএসএফ)-কে জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য দীর্ঘ ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সীমান্ত বা বিএসএফ সংক্রান্ত বিষয় অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। তবে এর সঙ্গে জড়িত দেশের প্রতিরক্ষাও। মনে করা হচ্ছে, বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে রাজনাথের সঙ্গে আলোচনা করে থাকতে পারেন শুভেন্দু। অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সাফ মন্তব্য, ‘অনুপ্রবেশকারীদের জেলে রেখে ভারতীয় করদাতাদের পয়সা নষ্ট করবে না সরকার। চিহ্নিত হওয়ার পর তাদের ফেরত পাঠানো হবে।’ 

এতদিন আটকে থাকা সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ যত দ্রুত সম্ভব চালু করতে তৎপর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তার মধ্যে জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্পও রয়েছে। জলশক্তি মন্ত্রকের অধীনে জল জীবন মিশন প্রকল্প রয়েছে কেন্দ্রের। রাজ্যে এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার থাকায় বারবার অভিযোগ উঠত, কেন্দ্র এসব প্রকল্পে অর্থে দেয় না। বঞ্চনা করে। পালাবদল হতেই সেসব ‘গেরো’ কেটেছে। ইতিমধ্যে জলশক্তি মন্ত্রক বাংলার জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্র।

Sumit Chakraborty: