মৌসুমী ভট্টাচার্য্য
সকাল ন’টা থেকে এগারোটা অব্দি বেশ ভিড় থাকে দোকানে, আদিল আর দুই ছোকরা কর্মচারী হিমসিম খায় সামলাতে। এগারোটার পর একটু কমে আসে। আদিল এ সময়টায় চা আনায় পাশের চায়ের দোকান থেকে, ইলাইচি চা। লম্বা এক সুড়ুৎ শব্দে চায়ে চুমুক দেয় আদিল। মান্ধাতার আমলের এক টেপ রেকর্ডারে ক্যাসেট চালায়, চোখ বন্ধ করে গান শোনা ও চা পান চলতে থাকে।
কিছু গৃহবধুরা এ সময় আসে, মাথার তেল, শ্যাম্পু বা খাদ্যসামগ্রী নিতে। কর্মচারীরা সামলায় এ সময়, কিছু রসিকতার কথা বলে মাল গছানোর চেষ্টা করে। “বৌদি, এই ক্রিমটা মেখে দেখুন। আরও ফর্সা হবেন”, এসব টুকরো টুকরো কথা কানে আসে। আদিল একটু বিরক্ত হলেও সহ্য করে। এরা লক্ষ্মী দোকানের। তার দোকানে সংসারের যাবতীয় জিনিস রাখা হয়, মহিলাদের খুব প্রিয়।
সে চোখ বুজে গান শোনে, প্রতিদিনই একজনের কথা মনে পড়ে। কী করছে এখন, আমাকে কী ভাবে একবারও! “এই তুমি কী করে এলাচ দেওয়া চা খাও! ওফ! মশলা দিয়ে চা, ভাবতেও পারি না। আমি কিন্তু দার্জিলিং চা-ই খাব, তোমার ওই ‘ইলাইচি চা’ না।” এক মিষ্টি কণ্ঠস্বর বাজে কানে। “ঠিক হ্যায়, তুম তুমহারি পসন্দ চায় খানা। হাম ইলাইচি চায় পীয়েঙ্গে”, আদিল হেসে বলত।
“হম খাব না চা”, বাঙালিরাই শুধু চা খায়, এ নিয়ে মজা করত। চা নিয়ে দ্বিমত, খাওয়া নিয়ে, তবুও তার সুন্দর চেহারা দেখে প্রেমে পড়েছিল এলিট, কালচার্ড হিন্দু বাঙালি রিণি।
একটা বাজলে বাড়ি থেকে খাবার আসে, কর্মচারীদের জন্যেও। পুলাও, কোফতা আরও সব পদ, থরে থরে সযত্নে পরিবেশিত। না, রান্না সত্যি ভালো করে রাবেয়া, তার বেগম। আর আদিলের হৃদয়ে প্রবেশ করার জন্য রাস্তা খুঁজে চলেছে সে নিরন্তর। মিথ্যেই লোকে বলে যে হৃদয়ে ঢোকার রাস্তা পেট দিয়ে যায়। তাহলে তো রাবেয়া…! আদিলের হৃদয়!
“তুমে দিলমে বন্ধ করলু, ….. দরিয়ামে ….. চাবি”, এই গানটি আদিলের খুব প্রিয়। এটির কারণ রাবেয়াও জানে। তবুও সে নীরবে তার স্ত্রীধর্ম পালন করে। মরমে মরে থাকে আদিলের জীবনে তাকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য। এক অপরাধবোধ, এক হীনমন্যতাবোধ তাকে কুরে কুরে খায়। সুপুরুষ আদিলের পাশে সে বেমানান, ভালো জানে সে। তাই সে সযত্নে রান্না করে, অনেকটা ভালোবাসা ঢেলে।
সকাল থেকে একটানা কাজ করে এই বসেছে একটু রাবেয়া। ঘন করে মশলা চা বানিয়ে শ্বশুর ও শাশুড়িকে দেয়, নিজেও মোড়া নিয়ে বসে। এই সময়ে একটু পারিবারিক কথাবার্তা হয়, গল্প হয়। শ্বশুর আতাউর তার নিজের মামা হয়। উনিই ভাগ্নীকে পুত্রবধূ নির্বাচন করে রীতিমতো অশান্তি করেই আদিলকে বাধ্য করেন। আদিল বাধ্য হয়ে নিকাহ্ করলেও মন থেকে যে রাবেয়াকে মেনে নেয়নি, এতে আতাউর অপরাধবোধে ভোগেন। রাবেয়ার জন্য আরও স্নেহবোধ করেন। এত ভালো ও গুণী মেয়ের কদর দিতে শিখল না আদিল! আপশোশ! ওই কাফের মেয়েটির প্রেমের কাজল এখনো পড়ে আছে সে। বেওকুফ! আশিকি এখনও উৎরা নহি!
পরম স্নেহে রাবেয়াকে ওর পছন্দের জিনিস এনে দেন। একটি সেলাই মেশিন এনে দিতে কী খুশি রাবেয়া! ঘরের কাজের ফাঁকে সেলাই করে। পুরো মহল্লার মহিলারা আসে, গল্পগাছা হয়, রোজগারও হচ্ছে। নাতিদুটোকে এখনো নিজেই পড়ায় রাবেয়া। সংসারটিকে যত্নে, ভালোবাসায় এক টুকরো জান্নাত বানিয়েছে সে। রূপের খামতি এভাবে পুষিয়ে দিতে চায়। তার কাছে আসে মহিলারা, গল্প করে, তাদের স্বামীরা কত কিছু এনে দেয়! আদিল তো কখনো কিছু দেয় না। দুটো ছেলে হয়েছে নিতান্তই জৈবিক কারণে। রাবেয়া সবার কথা শোনে আর ম্লান হাসে।
সেদিনও বেলা এগারোটায় চা আনিয়ে চুমুক দেবে আদিল, এমন সময় সমীর এলো। সমীর তার কলেজের বন্ধু, আগে এ অঞ্চলেই থাকত। সমীরকে দেখে খুশি হলো আদিল, চা-এর অর্ডার দিতে গেলে সমীর বাধা দেয়, “উহু, চায়ে চলবে না। বিরিয়ানি। চল, কথা আছে। এখানে নয়।” সমীর আর কিছু বলারই সুযোগ দিল না, প্রায় টেনেই নিয়ে গেল বাইরে। “এখনই দোকান ছেড়ে যাওয়া মুশকিল। বল, কী বলবি?”
চোখ নাচিয়ে সমীর বলে, “কাল দোকানের বাহানা চলবে না। বেলা বারোটায় পৌঁছে যাবি বিজনের রেস্তোরাঁতে। গেট টুগেদার আছে। কলকাতার বাইরে যারা থাকে, তারা এসেছে, একসঙ্গে লাঞ্চ, আড্ডা…”। একটু থেমে রহস্যভরা কণ্ঠে বলে, “আবে মিঞা, হুলিয়া থোড়া ঠিক করে জানা। তুমহারে লিয়ে জবরদস্ত সারপ্রাইজ হ্যায়”, বলে চলে গেল সমীর, আদিলের পিঠ চাপড়ে, এক ঝলক টাটকা বাতাস ছড়িয়ে। একঘেয়ে জীবনে একটু পরিবর্তন, একটু হলেও। আদিল ভাবতে থাকে কী সারপ্রাইজ হতে পারে! অনেক দিন পর বন্ধুদের দেখবে, ভেবে বেশ চনমনে বোধ করে।
সেদিন রাতে খাওয়াদাওয়ার পর আদিল আয়নায় নিজেকে দেখল। কত দিন নিজের দিকে তাকায়নি। অভিমানে নিজেকে কষ্ট দিয়ে অন্যদের কষ্ট দিয়ে আসছে। গালে হাত বোলায়, চুলে আঙুল চালাতে চালাতে ভাবে, কাল একটু ফিটফাট হয়ে যেতে হবে।
পরের দিন সকালে হালকা নাস্তা করে, চান করে রেডি হয়ে যখন বেরোতে যাবে, রাবেয়া সামনে এসে দাঁড়ায়। তার চোখে বিস্ময়, মুগ্ধতা, “মাশাল্লাহ্! কোথাও যাচ্ছ! কী সুন্দর দেখাচ্ছে!” সংক্ষেপে রাবেয়াকে জানায় যে আজ দোকানে শুধু কর্মচারীদের খাবার যাবে আর আব্বু পারলে যেন দোকানে গিয়ে বসে। বিস্মিত বাড়ির লোকজনের সামনে দিয়ে বেরিয়ে এল সে। এদেরও দোষ দেওয়া যায় না, কখনো তাকে দেখা যায় না কোথাও যেতে, সাজগোজ করতে। কী, কেন, কোথায়… এত প্রশ্ন ভালো লাগে না। বিশেষ করে আব্বাকে এড়িয়ে চলে। এত ধর্মীয় গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস আদিলের শিক্ষিত যুক্তিবাদী মন মানে না। আদিলের এত ‘কাফের’ প্রীতি তার আব্বাজান পছন্দ করেন না। ‘নিজেদের পৈতৃক ভিটে আগ্রা ছেড়ে এই কলকাতা কেন এসেছিল’, এই প্রশ্ন মনে মনে বহুবার করেছে আদিল। এই শহরে বড় হয়েছে, পার্ক সার্কাসের পচা গলিতেই তো সীমাবদ্ধ থাকেনি তার যৌবনের দিনগুলো। খুব স্বাভাবিকভাবেই তার বন্ধুরা সারা শহরেই ছড়িয়ে। বিভিন্ন পরিবার থেকে আসা বুদ্ধিদীপ্ত উজ্জ্বল তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে বড় হয়েছে।
দেশপ্রিয় পার্কের কাছেই তাদের বন্ধু কাম সহপাঠী বিজন তার অত্যাধুনিক রেস্তোরাঁ ‘হাপুস-হুপুস’ খুলেছে, যা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নামটি শুনে হাসি পেলেও, বেশ নজরকাড়া যাকে বলে। ত্যাড়া-বাঁকা করে এমনভাবে লেখা, যা রীতিমতো আকর্ষণীয়। আদিল যখন পৌঁছয় তখন সাড়ে এগারোটা প্রায়। খোলা ছাদে খুব সুন্দর সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট, গাছগাছড়া দিয়ে খুব ভালো সাজিয়েছে। কফির অর্ডার দিয়ে কর্নারে বসল। বিজন নেই, ফিটফাট ড্রেস পরিহিত এক ছোকরা কাস্টমার সামলাচ্ছে। বেশ রিল্যাক্সড ফিল করছে আদিল।
বেশ কিছু সময় গেল, কারও পাত্তা নেই, আদিল এবার একটু অধৈর্য হচ্ছে। এমন সময় এক সুবেশা মহিলা এসে ওই ছোকরা ম্যানেজারকে কিছু বলল। ছোকরাটি আদিলের দিকে দেখিয়ে দিল। আদিল ঘাড় ঘুরিয়ে প্রবেশপথের দিকে তাকিয়েছিল। এবার মহিলাকে তার দিকে আসতে দেখে, কফির কাপে মন দিল। অবাক হলেও তা প্রকাশ করল না। কে হতে পারে, ভাবতে না ভাবতেই মহিলা তার উল্টোদিকের চেয়ারে বসে, সানগ্লাসটি টেবিলে রাখে। ‘রিনি’! বিস্ময় কাটতে বেশ সময় লাগল। “কেমন সারপ্রাইজ! আশা করোনি। তাই তো!” রিনি দু’চোখে কৌতুক নিয়ে বলে।
এ কোন রিনি! সরু প্লাক করা ভুরু, ঈষৎ উঁচু হনু, মাধুর্যকে নষ্ট করে দিয়েছে। ডিপ নেক ব্লাউজ, ক্লিভেজ দেখানো, খসখসে চামড়া… সবকিছু আদিলকে বেশ এক ধাক্কা দিয়েছে। যে ছিল তার স্বপ্নচারিণী, যার কথা মনে করেই দিনের শুরু, সেই মিষ্টি নিষ্পাপ একটি মুখ! সামনে আসীন এই নারীর সঙ্গে তার কোনো মিল না পেয়ে এক হতাশা আদিলকে গ্রাস করে। নিজেকে সামলে এক কাষ্ঠহাসি দেয়, কথা চালাতে চেষ্টা করে। রিনিও বেশ আশাহত হয়েছে, চেহারায় স্পষ্ট। আদিলের উচ্ছ্বাসের অভাব তাকে ধাক্কা দিয়েছে।
রিনির ভাসা ডাগর দুটি চোখে এক ধূর্ত শিকারী দৃষ্টি। আদিল সেই চোখে চোখ রেখে কিছু খুঁজে, না পেয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। “তুমি আমাকে দেখে খুশি হওনি মনে হচ্ছে”, রিনির প্রশ্নে মৃদু হেসে আদিল মাথা নাড়ে।
“দশ বছরেরও পর দেখা। কেমন আছ?”
“চলে যাচ্ছে। তুমি এর মধ্যে আসোনি?” আদিল পাল্টে প্রশ্ন করে।
“এসেছি, খুব কম সময়ের জন্য। অনেক কাজ ও কমিটমেন্ট থাকত। কারও সঙ্গেই দেখা হতো না। এবার সময় পেয়েছি, সবার সঙ্গে দেখা করব।” বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে বলল রিনি।
কথাবার্তা ঠিক কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোচ্ছে না। এ তার প্রেমিক আদিল নয়। যেন অচেনা এক পরপুরুষ। আদিল আর কারও স্বামী, কথাটি মনে হতেই এক ঈর্ষা গ্রাস করে রিণিকে। সব জায়গায় সে হারবে না, আদিলের চোখে মুগ্ধতা শুধু তার জন্যেই থাকবে। কিছুটা মরিয়া হয়েই বলে, “নিকাহ্ করেছ নিশ্চয়ই। তা কেমন হলো তোমার বেগম! আমাকে ভুলিয়ে দিতে পেরেছে?”
এই প্রশ্নের জবাব দিতে একটু সময় লাগল, প্রস্তুত ছিল না। একটু হেসে এড়াতে চাইলেও রিনি নাছোড়বান্দা। একটু দ্বিধা নিয়ে আদিল বলে, “না, ভুলব কেন! তবে এখন জীবন পাল্টে গেছে। ঘোর সংসারী হয়ে গেছি। লাইফ ইজ নট রোজি।”
রিনি অন্য কিছু শুনতে চেয়েছিল। আদিল তাকে না পেয়ে যে কত কষ্টে আছে, তাকে দেখে উচ্ছ্বাস ও আবেগে ভেসে যাবে, এটাই তো স্বাভাবিক ছিল। আদিলের চোখে তার জন্য কোনও আবেগ দেখা যাচ্ছে না, বরং কেমন যেন শকড দেখাচ্ছে। আদিলের অভিব্যক্তিহীনতায় সে ক্ষুণ্ণ হয়, বলে, “বুঝতে পারছি, আমরা অনেকটাই বদলে গেছি। আমার প্রেমিক এখন এক বাস্তববাদী, সংসারী মানুষ হয়ে গেছে। এনি ওয়ে, আমার আরেক অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। চলি, কখনো আবার মিট করব।”
একটু থেমে বলে, “একদিন তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। সাহস ছিল না, সমাজ, ধর্ম, সবকিছুকে উপেক্ষা করে তোমার সঙ্গে পালানোর। তুমি সাহস করেছিলে। সব ছেড়ে আমাকে নিয়ে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলে। তোমার ‘বেপনাহ্ মুহাব্বত’-এর মর্যাদা রাখতে পারিনি। তাই বোধহয় আর জোটেনি কখনও।”
গভীর এক শ্বাস নিয়ে আবার বলে, “কলকাতা এলে দেখা করিনি। সাহস হয়নি তোমার সামনে দাঁড়ানোর। আজ যখন সব ছেড়ে সাহস করলাম, তখন সেই প্রেমিকই আর নেই। আমার বোঝা হয়ে গেছে,” বলতে বলতে রিনি নিচের ঠোঁট কামড়ে একটু থামে। রিনি কিছুটা দ্রুতই চলে গেল। আদিলের মনে হলো, পালিয়ে গেল রিনি।
রিনি চলে যাওয়ার পরে, অনেকক্ষণ গুম হয়ে বসে থাকে সে। তার মনে হলো, রিনির সঙ্গে দেখা না হলেই ভালো হতো। রিনির এত রূপান্তর তাকে জোর ধাক্কা দিয়েছে। তাহলে কি সে মোহাচ্ছন্ন ছিল! ভালোবাসলে তো এমন হওয়ার নয়। যে কোনও রূপেই গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা। আদিল খুব কনফিউজড হয়ে গেল। তবে কি, কোনও ছিদ্রপথে অসুন্দর রাবেয়া প্রবেশ করেছে! রিনিকে দেখার পর, এত কম সময়ের মধ্যেই বেশ ক’বার রাবেয়ার অসুন্দর মুখটি মনে ভেসে এসেছে। সুন্দর নয়, কিন্তু কী মায়া জড়ানো! আশ্চর্য! আপনা থেকেই এক তুলনা মনে এসেছে আর রাবেয়াকেই বেশি নম্বর দিয়েছে।
রিনির সেই রূপ, লাবণ্য, যা তাকে মোহাবিষ্ট করে রেখেছিল এযাবৎ, আজ যেন তীব্র এক ঝটকায় সেই আবেশ কেটে গেল। সঙ্গে নিয়ে গেল তার প্রেমিক হওয়ার গর্ব। এত ঠুনকোই ছিল তার অনুভূতি! যে রিনির জন্য সমাজ, মা-বাবাকে ত্যাগ করতে তৈরি ছিল। রিনি নির্দিষ্ট দিনে এলে আজ জীবন অন্যরকম হতো। রিনি সেদিন আসেনি। রিনির জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় অপেক্ষা করে করে ফিরে গিয়েছিল আদিল। রিনির চিঠি এসেছিল কোনও বন্ধুর হাতে। রিনির বিয়ে, বিদেশযাত্রা সবই জেনেছিল আর টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গিয়েছিল। আবার সেসব কষ্ট ডেকে আনা!
ধুর ছাই। এত ভাবা পোষায় না। উঠে পড়ে সে। কিছু খাবার নিয়ে যাবে বাড়ির জন্য। একটা কল আসছে। সমীর। না, আর অতীত নিয়ে কথা নয়। এবার তাকে তালাবন্ধ করে দরিয়াতে চাবি ফেলে দেওয়ার সময় এসেছে। আজ থেকে সে আসিফ-ইকবালের আব্বা, রাবেয়ার শোহর হয়ে বাঁচবে। বাঙালিদের সঙ্গে থেকে থেকে মুহাব্বত নিয়ে গ্লোরিফাই অনেক করেছে। রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে প্রাণভরে লম্বা শ্বাস নিল। বেশ ভারমুক্ত, ফুরফুরে লাগছে।