January 21, 2026

মেঘভাঙা বিপর্যয়ের ছয় মাস পরও অপেক্ষা—প্রিয়জনের শেষকৃত্য করার আর্তি

 মেঘভাঙা বিপর্যয়ের ছয় মাস পরও অপেক্ষা—প্রিয়জনের শেষকৃত্য করার আর্তি

কিশতওয়ার: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলার চিসোটি গ্রামে মেঘ ভাঙার পর মন্দিরের ঘণ্টা এবং অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে, বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫। (পিটিআই ছবি)

জম্মু ও কাশ্মীর: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় ভয়াবহ মেঘভাঙা বিপর্যয়ের ছয় মাস কেটে গেলেও আজও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে বহু পরিবারের। ক্ষতিপূরণ নয়, শুধু প্রিয়জনের শেষকৃত্য করার অধিকার—এই একটাই দাবি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন তাঁরা।

পাঞ্জাবের জালন্ধরের বাসিন্দা রাজেশ কুমার ও বিন্দিয়া গত কয়েক মাস ধরে আশা আর হতাশার মাঝামাঝি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। গত বছরের আগস্টে কিশতওয়ারের চিসোটি গ্রামে মেঘভাঙার ঘটনায় নিখোঁজ হয়ে যান তাঁদের ২২ বছরের মেয়ে বংশিকা এবং তাঁর বন্ধু দিশা। সেই দিন তাঁরা সবাই একসঙ্গেই হাঁটছিলেন। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে হঠাৎই চোখের আড়াল হয়ে যান দুই তরুণী—তারপর আর কোনও খোঁজ নেই।

বুধবার জম্মুর প্রেস ক্লাবের সামনে মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজেশ ও বিন্দিয়া। কান্নাভেজা কণ্ঠে বিন্দিয়া বলেন, “আমরা শুধু জানতে চাই আমাদের মেয়ের কী হয়েছে। কোনও খবর নেই, কোনও রিপোর্ট নেই। এই অনিশ্চয়তা আমাদের প্রতিদিন ভেঙে দিচ্ছে।”

পরিবারের অভিযোগ, সেপ্টেম্বর মাসে ডিএনএ নমুনা নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ নেই বলে দাবি তাঁদের। রাজেশ কুমারের কথায়, “আমরা মৃত্যু সনদের জন্য সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট উত্তর পাচ্ছি না।”


কিশতওয়ার: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলার মেঘ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চিসোটি গ্রামে বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

একই ছবি উঠে এসেছে জম্মুর রেশম গড় কলোনির বাসিন্দা রমেশ কুমারের কথায়। এই ঘটনায় তিনি হারিয়েছেন পরিবারের আটজন সদস্যকে—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর দুই বোন ও চার শিশু। এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি দেহ উদ্ধার হয়েছে, বাকি সাতজন নিখোঁজ।

রমেশ কুমার বলেন, “আমরা টাকা চাই না। শুধু চাই আমাদের প্রিয়জনদের মৃত ঘোষণা করা হোক, যাতে অন্তত শেষকৃত্য করতে পারি। ছয় মাস হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রশাসনের কোনও উদ্যোগ নেই।”

গত ১৪ আগস্ট, ২০২৫-এ মাচাইল মাতা মন্দিরের প্রবেশদ্বার চিসোটি গ্রামে মেঘভাঙার ফলে প্রাণ হারান অন্তত ৬৫ জন, যাঁদের বেশিরভাগই তীর্থযাত্রী। এখনও ৩০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *