কলকাতা, ৭ মে- শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে। গাড়িতে সেই সময়ে তাঁর সঙ্গে আরও একজন ছিলেন। তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। দু’জনকেই প্রথমে মধ্যমগ্রামের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপরজনকে কলকাতায় বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
রাতেই যশোর রোডের ধারে ওই বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও সেখানে যান ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী, বিধায়ক অর্জুন সিং, অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষ, সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে বিজেপি কর্মীদের ভিড় উপচে পড়ে। দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবারই চন্দ্রনাথের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা।
এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তেরা এখনও অধরা। তাদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে এলাকার বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে বলে সূত্রের খবর। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন সিআইডি-র আধিকারিকেরা। সঙ্গে রাজ্য পুলিশের কর্তারাও রয়েছেন। সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের সদস্যদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত শুরু করেছেন। চন্দ্রনাথের স্ত্রী রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বলেছেন, ‘স্বামীকে তো ফিরে পাব না। কিন্তু কারা এটা করল, আমি জানতে চাই। তাদের এনকাউন্টার চাই।’ স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রথমে চন্দ্রনাথের গাড়িটি দোহাড়িয়া লেনের ভিতরে ঢোকার সময় উল্টো দিক থেকে একটি গাড়ি তাঁদের রাস্তা আটকায়। এর পর বাইকে করে দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় বলে অভিযোগ। বাইক আরোহীদের মাথায় হেলমেট ছিল। দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চন্দ্রনাথকে বাঁচানো যায়নি। আশঙ্কাজনক বুদ্ধদেবও। অপরাধে ব্যবহৃত ওই চার চাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বুধবার হাসপাতাল চত্বর থেকে শুভেন্দুর দাবি, ‘১৫ বছর ধরে রাজ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলেছে। বুধবারই খড়দহে বোমা, বরাহনগরে ছুরি ও বসিরহাটে গুলিতে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।’ এই পরিস্থিতিতে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য দলের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন শুভেন্দু। শান্তি বজার রাখার কথা বলেছেন তিনি। গোটা ঘটনায় তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। চন্দ্রনাথের খুনকে একটি পরিকল্পিত, প্রতিহিংসাজনিত, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলেই মনে করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সমস্ত অপরাধীকে ভয়মুক্ত করে দিয়েছে। অপরাধীরা মনে করছে এটা স্বর্গরাজ্য। বারাসত-মধ্যমগ্রাম সীমান্ত থেকে খুব একটা দূরে নয়। বিভিন্ন ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হয়েছে এখানে দিনের পর দিন। জাল আধার কার্ড, রেশন কার্ড তৈরির কাজ চলছে এই বারাসত-মধ্যমগ্রাম থেকে। ভারতের যে প্রান্তেই অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে, তাদের সকলকেই জেরা করে জানা গিয়েছে— তারা কার্ড সংগ্রহ করেছে এই অঞ্চল থেকে।’
দু’দিন পরে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ পর্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসছেন পশ্চিমবঙ্গে। সে কথা স্মরণ করিয়ে শমীকের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীকে বার্তা দেওয়ার জন্যই কি এই হত্যা করা হল? না কি বিজেপির বুকে আঘাত করার জন্য এটি করা হল? তিনি বলেন, ‘আমাদের কি ক্ষমতা নেই? সিংহ স্থবির বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, সে ভুল করছে। আমরা তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে পারি, কথা বলতে জানি। কিন্তু তা-ও বলছি না, বলব না। এটাই আমাদের অবস্থান।’