কঠোর অবস্থান নিয়েও সুর বদল, উদ্ধারকাজে বিদেশি সাহায্য নেবে নেপাল

কাঠমান্ডু, ২৯ আগস্ট : বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে তাদের দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে আগে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল নেপাল সরকার। এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন্দ্র শাহের সরকার জানিয়ে দিল, উদ্ধারকাজে অন্য দেশের সাহায্য নিতে তাদের আপত্তি নেই। বহু ভিনদেশি পর্যটক নেপালে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সরকারও তাতে উদ্বিঘ্ন। এসবের পরেও নেপাল সরকার বিদেশি সাহায্যের প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। কিন্তু ওই নিখোঁজ পর্যটকদের দেশের রাষ্ট্রদূতেরা চাপ বাড়াতে থাকেন নেপালের উপর। তাতেই নেপাল সিদ্ধান্ত বদলেছে বলে জানা যাচ্ছে।

            কাঠমান্ডু পোস্টকে নেপালের এক সরকারি আধিকারিক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহল থেকে আমাদের উপরে প্রবল চাপ এসেছে। তাদের দেশের নাগরিকেরা যেহেতু নিখোঁজ, তাই তাদের পাঠানো উদ্ধারকারী দলকে অন্তত যাতে নেপালে ঢুকতে দিই, সেই দাবি করেছে তারা।’ তার পরেই সিদ্ধান্ত বদল করেছে বলেন্দ্র শাহের সরকার। ওই আধিকারিকের কথায়, ‘কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে আমরা যেতে দেব।’ কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, নেপালে বুধবারের হড়পা বানের পরে শুক্রবার পর্যন্ত ৫৫০ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ৯৭৭ জন এখনও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ৫১৭ জনই বিদেশি। তাঁরা ভারত, আমেরিকা, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া-সহ ৩১টি দেশ থেকে গিয়েছিলেন নেপালে।

            উদ্ধারকাজে বিদেশি সাহায্য না নিলেও বিদেশ থেকে অর্থসাহায্য চায় নেপাল। সেসময় এই বিষয়ে  নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেছেন, ‘সাহায্যের প্রস্তাব স্বাভাবিক। আমাদের উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। এই মুহূর্তে আমাদের বাইরের কোনও সাহায্য দরকার নেই।’ কিন্তু শেষপর্যন্ত সুর নরম করেছে নেপালের সরকার। নেপালের বিপর্যয়ে বুধবারই সাহায্যের বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বলেন্দ্রের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করবে নয়াদিল্লি। ইতিমধ্যে টন টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দু’টি বিমান নেপালে পৌঁছেছে। শুক্রবার উড়েছে তৃতীয়টি।

Sumit Chakraborty: