সোমবার | ০৯ মার্চ ২০২৬

আজ ১ ডলারের দাম ভারতীয় মুদ্রায় কতো জানেন?

 আজ ১ ডলারের দাম ভারতীয় মুদ্রায় কতো জানেন?

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, তেলের দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতির ওপরই অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী দিনে ভারতীয় মুদ্রার গতিপথ।

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: আন্তর্জাতিক অস্থিরতার আবহে আবারও ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা। সোমবার মার্কিন ডলারের তুলনায় রুপির বিনিময়মূল্য নেমে দাঁড়াল ৯২.৩০ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বনিম্ন স্তর। বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাহারের ফলে ভারতীয় মুদ্রার ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

গত সপ্তাহেই ডলারের তুলনায় রুপি প্রথমবার ৯২ টাকার গণ্ডি পেরিয়েছিল। গত বুধবার এক ডলারের দাম ছিল প্রায় ৯২.১৮ টাকা। সেই রেকর্ডও ভেঙে সোমবার আরও নীচে নেমে যায় ভারতীয় মুদ্রা। বাজার খোলার পর থেকেই রুপির ওপর চাপ বাড়তে থাকে এবং দিনের লেনদেনে তা ৯২.৩০ টাকা পর্যন্ত নেমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। ওই অঞ্চলের অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ছে এবং অন্যান্য মুদ্রার মতো ভারতীয় রুপিও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে দ্রুত বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ। ফলে তেলের দাম বাড়লে আমদানির খরচ মেটাতে বেশি ডলার প্রয়োজন হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয় এবং রুপির মূল্য কমে যেতে থাকে।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের অর্থ তুলে নিচ্ছেন। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যখন ভারতীয় সম্পদ বিক্রি করে সেই অর্থ ডলারে বদলে নেন, তখন বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। এর প্রভাবও পড়ছে রুপির ওপর।

রুপির এই পতনের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রথমত, রুপি দুর্বল হলে আমদানির খরচ বেড়ে যায়। বিশেষ করে তেল, ইলেকট্রনিক্স, শিল্পের কাঁচামাল এবং প্রযুক্তিপণ্য আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এতে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির ওপর।

তবে অর্থনীতির কিছু ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যাল বা অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্প যেহেতু ডলারে আয় করে, তাই রুপি দুর্বল হলে তাদের আয়ের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে।

এদিকে রুপির পতনের প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। এদিন বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ১.৭১% বা ১৩৫৩ পয়েন্ট পড়ে ৭৭,৫৬৬.১৬-এ থিতু হয়। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি (Nifty 50) ৪২২ পয়েন্ট (১.৭৩%) কমে ২৪,০২৮.০৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সেক্টর, যেখানে ২.৪৬% পর্যন্ত পতন দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *