রবিবার | ২৯ মার্চ ২০২৬

ঠিক কী ঘটেছিল তালসারিতে শুটিংয়ে? প্রশ্ন

 ঠিক কী ঘটেছিল তালসারিতে শুটিংয়ে? প্রশ্ন

বর্তমানে অভিনেতার দেহ দিঘার মর্গে রাখা হয়েছে। সোমবার কাঁথি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার-কে ইতিমধ্যেই খবর দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা, আগরতলা: টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে। রবিবার পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

জানা গিয়েছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামের ধারাবাহিকের শুটিংয়ে সকাল থেকেই ব্যস্ত ছিলেন রাহুল ও তাঁর সহকর্মীরা। বিকেলের দিকে শুটিং শেষ হওয়ার পর তিনি একাই সমুদ্রে নামেন। সেই সময় তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র সৈকতেই উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জলে নামার পর হঠাৎই বিপদে পড়েন রাহুল। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর পা বালির মধ্যে আটকে যায় এবং ঠিক সেই সময়ই প্রবল ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। ঢেউ সামলাতে না পেরে তিনি তলিয়ে যেতে থাকেন। পরিস্থিতি বুঝে শ্বেতা মিশ্র চিৎকার করে সাহায্য চান। অভিনেতা দিগন্ত বাগচী-র কথায়, “হয়তো তিনি সাঁতার জানতেন না, অথবা কোনও ভাবে আটকে পড়েছিলেন।”

অন্যদিকে, রাহুলের গাড়িচালক জানান, সমুদ্রের দিকে যেতে তাঁকে বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা শোনেননি।

অবশেষে জলের মধ্য থেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অভিনেতাকে। তালসারি থেকে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে দিঘা মহকুমা হাসপাতাল-এ নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রোডাকশন ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী জানান, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই সম্ভবত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন রাহুল।

বর্তমানে অভিনেতার দেহ দিঘার মর্গে রাখা হয়েছে। সোমবার কাঁথি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার-কে ইতিমধ্যেই খবর দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি রাহুলের মায়ের সঙ্গে দেখা করে বলেন, “সন্তান চলে গেলে কোনও মা-ই স্বাভাবিক থাকতে পারেন না।”

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আপাতত এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে মনে করা হলেও, প্রকৃত কারণ জানতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *