অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ, বিজেপিকে তীব্র আক্রমণে মমতা

কলকাতা, ২৪ আগস্ট- অন্নপূ্র্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার কারণে জেলায় জেলায় মানুষের ক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। আর এবার সেই বিক্ষেভের পারদ চড়তেই আসরে নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন জেলায় যেভাবে পথ অবরোধ, রেল অবরোধ থেকে শুরু করে বিজেপির নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রীরা যেভাবে বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন সেই ঘটনা তুলে ধরে আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

            কালীঘাট তৃণমূলের প্রধান আজ ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত রাজ্যের যেসব মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশের ভাতাই বর্তমানে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা আটকে রাখা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও বেশিরভাগ মহলাই যে এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই বলে জানান তিনি। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপি যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, কাজের বেলায় তার ঠিক উল্টো পথ হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণ দেখে ভাতা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

            প্রশাসন ও বিজেপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে খোঁচা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শাসকদল এখন কেবল বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতেই ব্যস্ত।’ এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে নানা কেস দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে গিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সাধারণ মহিলারা পাচ্ছেন কি না, সেদিকে নজর দেওয়ার বিন্দুমাত্র সময় নেই সরকারের।

            যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়েও মুখ খুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবপুরের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, মতের অমিল থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা তার বন্ধু এবং এই কঠিন সময়ে তিনি তাদের পাশেই রয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে র‍্যাঙ্কিংয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর স্থান অধিকার করে আছে। পড়ুয়াদের সঙ্গে রাজনৈতিক বা আদর্শগত মতপার্থক্য আমার থাকতেই পারে, কিন্তু আমি কোনও দিন তাদের অশ্রদ্ধা করিনি। যখন ছাত্ররা অনশনে বসেছিল, আমি নিজে ছুটে গিয়েছিলাম।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যাদবপুরে যখন হামলা হল, তখন আমার হৃদয় কেঁদেছে। দিল্লিতে যখন ছাত্ররা আন্দোলন করেছিল, আমি নিয়মিত ওদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম। বাঁকুড়ায় এক আন্দোলনকারী ছাত্রের বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে আমি দলীয় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলাম। শুধু যাদবপুর নয়, প্রেসিডেন্সি ও আশুতোষ কলেজেও আক্রমণ চালানো হয়েছে।’

            মমতার অভিযোগ, বেছে বেছে তৃণমূল বিশেষত কালীঘাটপন্থী তৃণমূলকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে অভিযোগ তৃণমূলনেত্রীর। এ-ও জানান, তার কোনও কর্মসূচিতে অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। আদালত থেকে অনুমতি আনতে হচ্ছে। তার কথায়, ‘২৮ অগস্টের জন্য অনুমতি চেয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অনুমতি পাইনি। সকলকে ভয় দেখানো হচ্ছে।’ মমতার হুঙ্কার, ‘বিজেপির নেতারা যদি ভেবে থাকেন মিটিংয়ের অনুমতি আমাকে দেবেন না, তা হলে আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করব, ভুল ভাবছেন। আমি সন্ন্যাসী নই। মনে রাখবেন, বিজেপিকে সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত আমাদের লড়াই থামবে না।’

Sumit Chakraborty: