কলকাতা, ১৩ জুন- শুক্রবার বিকেলে সিআইডির তদন্তকারীদের একটি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে যান নোটিস দিতে। আর গভীর রাতে সেই বাড়িতেই আচমকা হাজির হলো শালবনি ও কালীঘাট থানার পুলিশ। টানা প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরে শনিবার ভোর ৬ টা নাগাদ ওই বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকল পুলিশ। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে তল্লাশি। তবে তার বাড়ি থেকে কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলেই খবর।
সূত্রের খবর, অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে ওই বাড়িতে যায় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করা হয় শালবনি থানায়। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলার শালবনি থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। তার অভিযোগ ছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শালবনি আসন থেকে তাকে পুনরায় দলীয় টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুমিত রায় তার কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি টিকিট পাননি। এই পরিস্থিতিতে টাকা এবং টিকিট – দুটোই না মেলায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার ভোররাতে শালবনি থানা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল কালীঘাট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বাড়ির চারপাশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও ছিলেন।
দীর্ঘক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করার পরেও সাড়া না মেলায় পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের বাহিনীকে ডাকা হয়। তারপর তারা তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। ততক্ষণে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যান তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ ৯০ মিনিট তল্লাশি চালানোর পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তার কিছু সময় পরে বেরিয়ে যান তৃণমূলনেত্রী। পরে অভিষেক বেরিয়ে বলেন, ‘তালা ভেঙে ঢুকে পুরো বাড়ি ওরা সার্চ করেছে। সব রেকর্ড রয়েছে।’ পুলিশের অনুমান ছিল, বাড়িতেই অফিস থাকায় সেখানে সুমিত রায় এই লেনদেন সংক্রান্ত কোনও নথি থাকতে পারে। যদিও কিছুই মেলেনি। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে এই সুজয় হাজরাকেও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিষেকের বাড়িতে এই তল্লাশির প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। গোটা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘এটা আর কিচ্ছু নয়, স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ভয় দেখানো এবং মানসিক নির্যাতন চালানোর অপচেষ্টা। যারা বিজেপির ফতোয়া বা ডিক্ট্যাট মেনে নিতে অস্বীকার করছে, ‘অপারেশন লোটাস’ বেছে বেছে সেই সমস্ত বিরোধী নেতাদেরই টার্গেট করছে। একজন শীর্ষ সারির বিরোধী নেতার ওপর এই ধরনের আক্রমণ অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটা অত্যন্ত প্রতিহিংসামূলক, চক্রান্তকারী এবং নীচ স্তরের নোংরা কৌশল। ধিক্কার!’
বিধানসভার সই জাল এবং ডিজে মন্তব্য মামলায় আপাতত জেরবার অভিষেক। দু’টি ঘটনারই তদন্তভার সিআইডি’র কাঁধে। সই জাল মামলায় ভবানীভবনে গত বৃহস্পতিবার হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা তাকে জেরা করা হয়। এই মামলায় আগামী রবিবার ফের হাজিরা দিতে হবে তাকে। আবার শুক্রবার তার বাড়িতে গিয়ে ডিজে মন্তব্য মামলায় হাজিরার সমন পৌঁছে দেয় সিআইডি। এই মামলায় আগামী ১৬ জুন তলব করা হয়েছে তাকে। এই আবহের মধ্যেই এবার আমফানের ত্রাণ দুর্নীতি নিয়েও অভিষেকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। ডায়মন্ড হারবারের প্রতিটি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেই জানান তিনি। জেলা পুলিশ কমিশনারের কাছে সিট গঠন করে তদন্তের আর্জিও জানান ববি।