কবিতা : মৌচুক্তি

বাসব মৈত্র

স্তুতিহীন অনন্তের বাঁকে তবে ধাক্কা খেল বুলডোজার! শহীদ বেদীর পতাকা তখন যেভাবে ছিটকে পড়ল— তার কিছুটা আড়ালেই দাঁড়িয়ে ছিল বাম জমানার দু’এক উচ্চারণ, স্লোগান। মায়াবী আচ্ছন্নতায় বুলডোজার কিছুটা থমকে।সামনে জনা পঞ্চাশ লোক।

“রাস্তা আটকে দোকান বসবে? কোনো সভ্য দেশে বসে? আপনি দেবেন আপনার ব্যালকনিতে থাকতে কোনো দুঃস্থকে?”

সভ্যদেশ তুমি এই চরাচরে এক অভিজাত শিখণ্ডী।

এখানে পুনর্বাসনের গল্পটা আজও সস্তা উঁই ধরা বেঞ্চির গল্প।

“কিন্তু আপনি তো ফুটপাথেই। সাবু বিস্কুট সহযোগে চা। দেড়শো টাকার কফি তো ওই কাচ ঘেরা কফিশপে।”

মাল্টিপ্লেক্স ও সবুজায়ন— এই তো শিরোনাম

এরই পাশে শিয়ালদার ধার ঘেঁষে কলেজেই শয্যা বিছানো এসি ঘর।
উইয়ে খাওয়া টাকা: কলেজেই আসত তো ওরা !
ছাত্রনেতা: ওগো বয়সের গাছ পাথর লাগে না! প্রায় মধুচক্র, চারপাশে ইউনিয়ন দাদা হাজার ছাড়িয়ে লাখ টাকায় বিক্রি অনার্সের সিট

স্তুতিহীন অনন্তের বাঁক—
অবৈধ নির্মাণ এ রাত দ্ব্যর্থবোধে ব্যঞ্জনাময়

ফুটপাথের হকার আর ইউনিয়নের অনার্স বিক্রেতা দাদা এক নয়, ওগো পণ্য শুল্ক
ওগো অনন্ত রুদ্র পলাশ: এ টুকু খেয়াল রেখো।

Sumit Chakraborty: