পিকু মানে আতঙ্ক নয়। বরং সুস্থ হওয়ার ঢাল, বাড়তি আশীর্বাদ!

অনেক অভিভাবকেরই ধারণা, শিশুকে পিডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিকু)-তে ভর্তি করা মানেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, জটিল টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতি, অস্ত্রোপচারের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে নানা জটিল পরিস্থিতিতে শিশুকে দ্রুত ও নিরাপদ চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিকু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেন পিকু শিশু চিকিৎসার একটি অপরিহার্য অংশ, সেই বিষয়েই এই প্রতিবেদন। এই বিষয়ে কথা বলেছেন পিয়ারলেস হাসপাতাল, কলকাতার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সহেলী দাশগুপ্ত

ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, জটিল টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার পর কিছু শিশুর রক্তচাপ অনেক সময় দ্রুত নেমে যায়। কমে যায় শরীরে তরলের মাত্রা। এমন ক্ষেত্রে শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। পিকু সে ক্ষেত্রে অনেক নিরাপদ নির্বাচন।
বহু বাচ্চার অ্যাজমার বাড়াবাড়ি হয়। কারও কারও নিউমোনিয়া হয়ে যায়। জেনারেল বেডে তখন শুধু অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে শিশুর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি সম্ভব হয় না। এমন ক্ষেত্রে শিশুটিকে পিকুতে স্থানান্তরিত করে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানুলা, সি-প্যাপ, বাই-প্যাপ মেশিনের সাহায্যে শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ ও মাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হয়। অর্থাৎ সামান্য অথচ প্রাণদায়ী চিকিৎসাসহায়তার ক্ষেত্র হিসেবে পিকু এ ক্ষেত্রে আদর্শ বিভাগ হিসেবে কাজ করে।
বর্ষার সময় সর্দি, কাশি ইত্যাদির সমস্যা নিয়ে বাচ্চারা প্রায়ই ভর্তি হয়। বিশেষ করে অ্যাডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত বহু বাচ্চারই শ্বাসকষ্টের সমস্যা তৈরি হয়। আবার স্নায়ুগত সমস্যা, যেমন প্রবল খিঁচুনি থেকেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে শিশুর ভেন্টিলেশনে প্রবেশ প্রতিরোধ করতে কাজে আসে পিকু।
উঁচু জায়গা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায়, কোমরে চোট পেলে, পুড়ে গেলে তখনও শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি রাখতে হয় তীক্ষ্ণ নজর। এমন ক্ষেত্রেও পিকুর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ফাইমোসিস, অ্যাপেনডিক্স, গলব্লাডার স্টোন, অ্যাডিনয়েডেকটমি সার্জারি, টনসিলেকটমির মতো অতিপরিচিত অপারেশনের পরেও শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা একটানা নজর রাখার দরকার হয়। এমন ক্ষেত্রে পিকু হল সেরা নির্বাচন, কারণ এই বিভাগেই থাকেন ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক, নার্স ও জীবনদায়ী সকল ব্যবস্থা।
খুব খারাপ ধরনের সেপসিস বা স্পেশাল চ্যানেল তৈরি করতে হলেও দরকার পিকুর সহায়তা।
ছোটদের হার্টের ফুটোর একটি চিকিৎসা ‘ডিভাইস ক্লোজার’। এই চিকিৎসার পরেও সাবধানতা হিসেবে বাচ্চাকে পিকুতে রাখা হয়।

শেষকথা

সুতরাং একটা কথা পরিষ্কার। পিকু মানে ‘শেষ অবস্থা’র অবলম্বন নয়। আমাদের দেশে চিকিৎসাব্যবস্থায় পিকু শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি ঢালের মতো আচরণ করে। তাই কোনও জটিলতা তৈরি হলে চটজলদি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, কারণ হাতের কাছে মজুত থাকে সব জীবনদায়ী ওষুধ, মেশিন। তা ছাড়া শিশুদের শরীরের কাঠামো প্রাপ্তবয়স্কদের মতো নয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। এমন ক্ষেত্রে পিকুর সহায়তা একধরনের আশীর্বাদ।

Sumit Chakraborty: