ওয়াশিংটন, ২১ আগস্ট : বিগত ছয় মাস ধরে ইরানে অভিযান চালাচ্ছে আমেরিকা। আর সেই সামরিক অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সাড়ে সাতশোর বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (ট্রাম্পের জমানায় যার নতুন নাম যুদ্ধ দফতর) পেন্টাগনের তরফে সে দেশের আইনসভা কংগ্রেসকে দেওয়া একটি রিপোর্টে এ কথা জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরানও। ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পশ্চিম এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন বাহিনী সেন্টকম। পেন্টাগনের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়াল্টি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (ডিসিএএস)-এর ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ এবং সেন্টকমের তরফে দেওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরির’ হিসাব একত্রিত করলে দেখা যাচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অভিযান হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও মার্কিন কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাননি। অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান সংক্রান্ত নানা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে ইতিমধ্যেই তিনি মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক ও আইনি টানাপড়েন তৈরি করেছেন। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজ়োলিউশন’ অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া যে কোনও যুদ্ধের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত। প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতাবলে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারেন। ওই সময়সীমা পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন তিনি। এর পর সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় আরও নিতে পারেন। কিন্তু সেসব আইনের তোয়াক্কা না করেই লাগাতার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছেন ট্রাম্প।