রবিবার | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

পাকিস্তানে দুই মানবাধিকার আইনজীবীর ১৭ বছরের কারাদণ্ড

 পাকিস্তানে দুই মানবাধিকার আইনজীবীর ১৭ বছরের কারাদণ্ড

শুনানির সময় ওই দম্পতি ভিডিও লিঙ্কে সংক্ষিপ্তভাবে হাজির হলেও বিচার প্রক্রিয়া বয়কট করেন।

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: পাকিস্তানের একটি আদালত শনিবার দুই মানবাধিকার আইনজীবী—জয়নাব মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলি চাঠাকে—প্রতিজনকে ১৭ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু পোস্ট করেছিলেন, যা রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, বিচারপতি আফজাল মাজোকা রায় ঘোষণা করেন তাঁদের গ্রেপ্তারের একদিন পরেই। গ্রেপ্তার করা হয় ইসলামাবাদ থেকে। শুনানির সময় ওই দম্পতি ভিডিও লিঙ্কে সংক্ষিপ্তভাবে হাজির হলেও বিচার প্রক্রিয়া বয়কট করেন। এরপর আদালত বিচার শেষ করে রায় ঘোষণা করে। পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে এই রায়ের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রায়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে জয়নাব মাজারি একাধিক টুইট করেছেন, যা নিষিদ্ধ বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও পাকিস্তানি তালিবানের “এজেন্ডা তুলে ধরেছে” বলে আদালতের মন্তব্য। এই মামলার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের আগস্টে, যখন ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিতে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ওই দম্পতি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন।

গত অক্টোবরে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে তাঁরা বারবার আদালতে হাজির হতে অস্বীকার করেন। বিচারকের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, জয়নাব মাজারি “নিয়মিতভাবে অত্যন্ত আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর ও রাষ্ট্রবিরোধী কনটেন্ট” ছড়িয়েছেন এবং এতে তাঁর স্বামী সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন।

রায়ে আরও বলা হয়, মাজারির টুইটগুলোতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রয়েছে, যা ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন (পিইসিএ)-এর আওতায় অপরাধ। এই আইনটি গত বছর সংসদে পাস হয় ভুয়ো তথ্য ও ঘৃণামূলক বক্তব্য দমনের লক্ষ্যে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, মাজারি এমন একটি বয়ান ছড়িয়েছেন, যা সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিচারপতি রায়ে বলেন, অভিযুক্তদের সামগ্রিক আচরণ বিচার প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত ও ব্যাহত করার কৌশলকেই প্রতিফলিত করে। তাঁরা আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন এবং বিচার ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন।

এই গ্রেপ্তার ও রায়ের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ও দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং জয়নাব মাজারি ও হাদি আলি চাঠার অবিলম্বে মুক্তির দাবি তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *