ইরানের যুদ্ধবিমানকে আশ্রয় পাকিস্তানের, শরিফ সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

ইসলামাবাদ, ১২ মে : আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্য নিয়ে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য দুই দেশকেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। এবার একটি সংবাদমাধ্যমের খবরের জেরে সেই পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। আমেরিকার এক প্রশাসনিক কর্তাকে উদ্ধৃত করে সিবিএস নিউজ দাবি করেছে, আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরানের যুদ্ধবিমান নিজেদের ঘাঁটিতে রাখতে দিয়েছিল পাকিস্তান।

            পাকিস্তানের শাহবাজ সরকার দাবি করেছিল, তারা নিরপেক্ষ। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এর মধ্যেই ওই সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, আমেরিকার হামলা থেকে বাঁচতে ইরানের যুদ্ধবিমানকে ‘আশ্রয়’ দিয়েছিল পাকিস্তান। সূত্রের খবর, রাওয়ালপিন্ডির কাছে নুর খান বায়ুসেনা ঘাঁটিতে রাখা হয়েছিল ইরানের সে সব যুদ্ধবিমান। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আমেরিকা।

            আমেরিকার তরফে এক কর্তা দাবি করেছেন, এপ্রিলের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে রাওয়ালপিন্ডির কাছে নুর খান ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান রেখেছিল ইরান। যুদ্ধের কিছু সরঞ্জামও রেখে দিয়েছিল তারা। একটি সূত্রের খবর, পাকিস্তানের ওই বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ছিল ইরানের বায়ুসেনার আরসি-১৩০ বিমান। ওই বিমানে চেপে নজরদারি চালায় সেনা। নুর খান ঘাঁটিতে ছিল ইরানের লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস। পণ্য পরিবহণের জন্য ওই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়। ওই মার্কিন আধিকারিকের দাবি, আমেরিকার হামলার হাত থেকে নিজেদের বাকি যুদ্ধবিমান বাঁচাতেই পাকিস্তানে সেগুলি রেখে দিয়েছিল ইরান।

            সংবাদমাধ্যমের এই তথ্য সামনে আসতেই পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমেরিকার সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি এক্সে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এই রিপোর্ট সত্য হলে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনরায় পর্যালোচনা করা উচিত।’ তিনি আরও জানান, ইজ়রায়েলকে নিয়ে শুরুর দিকে পাকিস্তানের সামরিক আধিকারিকেরা যে মন্তব্য করেছিলেন, তার পরে এই রিপোর্ট সত্যি হলে তিনি বিস্মিত হবেন না।

Sumit Chakraborty: