কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর- বাংলায় নতুন সরকার আসার পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা। আবার এই ভাতার ক্ষেত্রে বিগত সরকারের যে ‘ওয়েটিং লিস্ট’ ছিল তাও বাতিল করা হলো বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার থেকে এই ভাতার উপভোক্তারা এক হাজার টাকার পরিবর্তে দেড় হাজার টাকা করে পাবেন। সোমবার নবান্ন সভাঘরের বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বিগত সরকারের যাবতীয় ওয়েটিং লিস্ট আজ থেকে বাতিল করে দেওয়া হল। আমরা আবার জনকল্যাণ শিবির করব। সেখানে গিয়ে সকলে নতুন করে আবেদন জানাবেন।’
বিভিন্ন সামাজিক ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিগত তৃণমূল আমলে অনেক গোঁজামিল ছিল বলে আগে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কাছের লোকেদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া জন্য এমন তালিকা তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তার কথায়, ‘আগে আমরা অনেক জায়গায় দেখেছি, একজন পুরুষ স্বামীহীন ভাতা পাচ্ছেন। এমনটা তো চলতে পারে না। আমরা তাই আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করে নতুন করে তালিকা তৈরি করব। আমি চাই, যারা আমাদের জনকল্যাণ শিবিরে এসে নাম লিখিয়েছেন, তাদের আবেদন, নথি যাচাই করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগে ভাতা দেওয়া হোক। আমরা আবার গ্রাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড এলাকায় ২ দিন ধরে জনকল্যাণ শিবির করব। সেখানে এসে আপনারা নাম লেখান। এছাড়া ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ নামে কর্মসূচিও হবে। সেখানেও আবেদন করতে পারবেন।’
সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ৮২ লক্ষ উপভোক্তা এই তিন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তার জন্য বছরে ১৪,৭৭১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে সরকারের। এই অর্থ সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাবেন ‘যোগ্য’ প্রাপকরা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘রাজ্যের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আমাদের বছর খানেক সময় লাগবে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য, যোগ্য মানুষকে যোগ্য সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। মোট ৬১, ৫৭, ২৩০ জন স্বামীহীন, বৃদ্ধ ও দিব্যাঙ্গ মানুষ এই ভাতা পাচ্ছেন। জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে আরও ৬.৩৭ লক্ষ উপভোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’