অভিষেকের বিরুদ্ধে কেন বারবার এফআইআর, প্রশ্ন তুলল আদালত

কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর– রাজ্যে পালাবদলের পরেই একের পর এক ইস্যুতে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এবার এই এফআইআর দায়ের নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। নতুন মামলার শুনানিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘যথেষ্ট হয়েছে। আমি ক্লান্ত।’  পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হলে ভবিষ্যতে অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রেও আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে স্পষ্ট করেছে আদালত।

এর পাশাপাশি অবশ্য আদালত জানিয়ে দিয়েছে, তদন্ত চালাতে কোনও পুলিশের কোনও বাধা নেই। প্রয়োজন হলে চার্জশিটও দিতে পারবে পুলিশ। কিন্তু আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। তাকে নোটিস দেওয়া যেতে পারে এবং তদন্তে সহযোগিতার জন্য হাজির হতে হবে। অভিষেক বর্তমানে বিদেশে থাকলেও দেশে ফেরার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে বলে জানিয়েছে আদালত। ডায়মন্ড হারবারে নিজের সংসদীয় এলাকায় দু’বার সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরের আয়োজন করেছিলেন অভিষেক। অভিযোগ, নিয়ম মেনে তা করা হয়নি। প্রয়োজনীয় অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। সেখানে একাধিক রোগীর ভুল চিকিৎসা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সংক্রান্ত ঘটনায় অভিষেকের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি বিষ্ণুপুর থানায় সেবাশ্রয় নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। পরে মালতী বিশ্বাসের পরিবার রবীন্দ্রনগর থানায় অভিযোগ করে, যার ভিত্তিতে অভিষেক-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। অভিযোগকারী অভিজিৎ এর আগে দু’বার ভোটে অভিষেকের বিরুদ্ধে লড়েছেন এবং পরাজিত হয়েছেন।

রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর মামলায় যে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত, এ ক্ষেত্রেও তেমন নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, জানান বিচারপতি। বলেন, ‘এ ক্ষেত্রেও শুভেন্দু অধিকারীর মতো নির্দেশ দিতে বাধ্য হব। আদালতের অনুমতি ছাড়া আর কোনও এফআইআর করা যাবে না। এটা কী চলছে?’ দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে অভিষেককে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেয় আদালত।  

Sumit Chakraborty: