কলকাতা, ১২ আগস্ট- পুজোর পরেই রাজ্যে পুরভোটের ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এদিন বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুর্নবিন্যাসের বিল পাশ করল রাজ্য সরকার। আর এ নিয়ে বিরোধীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল বিধানসভায়। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, এ নিয়ে আমজনতার মতামত চাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে বিল নিয়ে এসেছে সরকার।
সরকারের তরফে যে বিল আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, কলকাতা পুরসভার ১৪৪ টি ওয়ার্ড ভেঙে ২০৯ টি ওয়ার্ড এবং হাওড়া পুর নিগমের ৫০ টি ওয়ার্ড বেড়ে হবে ৬৮ টি ওয়ার্ড। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘তৃণমূল জমানায় হাওড়ায় দুর্নীতি হয়েছে। পুকুর বুজিয়ে বৈআইনি নির্মাণ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা তথৈবচ। পানীয় জলটুকুও সব বাড়িতে পৌঁছয় না। আমরা রাস্তা-নিকাশি-জল নিয়ে বিশেষ প্ল্যান করছি। ১৫ বছর ধরে হাওড়ার মানুষ বঞ্চিত। জনসংখ্যার তারতম্যের কারণেই ওয়ার্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হলে নাগরিকরা সঠিকভাবে পরিষেবা পাবেন। মানুষের ভোটে হারবেন বলে, এতদিন ভোটই করতে দেয়নি তৃণমূল। আর্থিক বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা হাওড়া বঞ্চিত। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী, সংশোধনী বিল ২০২৬ নামে একটি বিল তৈরি হয়। প্রশাসনিক বৈষম্য ও পুর পরিষেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮টি বাড়ানো হবে।’ পূর্বতন সরকারকে বিঁধে বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচির মন্তব্য, ‘তৃণমূল নেতাদের করজোড়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত। হাওড়া, বালির মানুষের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এতদিন।’