তৃণমূল জমানার ইস্যু করা সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করল আদালত

কলকাতা, ১২ আগস্ট– তৃণমূল জমানায় নতুন নিয়মে জারি হওয়া সব শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি বিভাজন এখন আর নেই। তাই এই ধরনের শংসাপত্রগুলির আর বৈধতা নেই। যাদের এই শংসাপত্র রয়েছে, তারা এখন থেকে ‘সাধারণ শ্রেণি’ (জেনারেল ক্যাটেগরি) হিসেবেই বিবেচিত হবেন।

            ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত জট দীর্ঘদিনের। ২০১০ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া শংসাপত্রগুলি নিয়ে একাধিক অভিযোগ ছিল। হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট হয়ে সেই মামলা ফিরে আসে কলকাতা হাই কোর্টে। বুধবার সেই শুনানিতেই ২০১০ সালের পর ইস্যু হওয়া সব ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করল হাই কোর্ট। এ দিকে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি ক্যাটাগরি তুলে দিয়েছে। তারা ওবিসি-তে একটিই ক্যাটাগরি রেখেছে। এবার মমতা সরকারের জারি করা সব ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি সার্টিফিকেট বাতিল করায় একটি ক্যাটাগরিই থাকল। যাদের কাছে এই শংসাপত্র আছে, তারা সাধারণ ক্যাটাগরির অর্ন্তভুক্ত হবে।

            ২০১১ সালে পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের সরকার ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি দু’টি ক্যাটাগরি তৈরি করে। তা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়। একটি বিশেষ শ্রেণিকে অতিরিক্ত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ, মাত্র আড়াই হাজার নমুনা সংগ্রহ করে সমীক্ষা হয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই নতুন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মোট ১৪২টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। হাই কোর্ট আপত্তি করলে ফের সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। কিন্তু এ বার আর শীর্ষ আদালত এই মামলায় কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। ফলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ওবিসি শংসাপত্র দেওয়ার কাজ চলছিল। সেই নতুন শংসাপত্রগুলি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাতিল করে দিল হাইকোর্ট।

Sumit Chakraborty: